
ইরানে সামরিক হামলার ব্যাপারে সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়ে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে তিনি হামলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তাকে যেসব বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে তেহরানের কিছু 'বেসামরিক স্থাপনায়' হামলার বিষয় রয়েছে।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের দিকে ইঙ্গিত করেছে। শনিবার ট্রাম্প লিখেছেন, 'ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে, সম্ভবত যা আগে কখনো দেখেনি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের জন্য প্রস্তুত!!!'
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সরকারের পতনের দাবিতে রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর গুলিতে ইতিমধ্যেই কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, বিক্ষোভের মুখে সরকার পিছু হটবে না।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'আমি খুব স্পষ্টভাবে বলেছি, অতীতে তারা যেভাবে মানুষ হত্যা করেছে, এবারও যদি তেমনটা করে, তবে আমরা এতে জড়িয়ে পড়ব। আমরা তাদের খুব কঠিনভাবে আঘাত করব, যেখানে আঘাত করলে ব্যথা লাগে। এর মানে এই নয় যে সেখানে সৈন্য পাঠানো হবে, কিন্তু আমরা তাদের খুব কঠিন আঘাত করব। সুতরাং আমরা চাই না তা হোক।'
শনিবার সকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনটি সূত্র জানিয়েছে, দুই নেতা ইরানের বিক্ষোভ, সিরিয়া পরিস্থিতি এবং গাজার শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন। শনিবার সকালে ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে রুবিও লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র 'ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে'।
গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটকের পর ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বোঝাতে চাইছে যে, ট্রাম্প অন্য প্রেক্ষাপটেও সাহসী পদক্ষেপ নিতে এবং তার হুমকি বাস্তবায়নে প্রস্তুত।
শুক্রবার স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ভেনেজুয়েলায় রাতের অভিযানের ভিডিও পোস্ট করে লিখেছে: 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে খেলা করবেন না। তিনি যখন কিছু করার কথা বলেন, তখন তিনি তা সত্যিই করেন।'
জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপিত কিছু বিকল্পে সরাসরি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সেই সব উপাদানকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব রয়েছে, যারা বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা চালাচ্ছে।
তবে কর্মকর্তারা একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন যে, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে ইরানি জনগণ সরকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে অথবা এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ও কূটনীতিকদের ওপর পাল্টা হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানান, আঞ্চলিক কমান্ডাররা যেকোনো হামলার আগে মার্কিন অবস্থান সুসংহত করতে এবং পাল্টা হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে আরও কিছুটা সময় চাইবেন। কর্মকর্তারা বলছেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত শাস্তির বাস্তবায়ন এবং পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয়—এই দুয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
মাত্র ছয় মাস আগেই গত জুনে ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিলেন। 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার' নামের ওই হামলায় ছয়টি বি-২ বোমারু বিমান ইরানের ফোরদোর পাহাড়ি স্থাপনায় ১২টি বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ফেলেছিল। এ ছাড়া নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় ৩০টি ক্রুজ মিসাইল ছোড়া হয়েছিল।
ইরান তখন পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিল। ইরানের দাবি, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক।
গত মাসের শেষে মার-এ-লাগোতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বৈঠকেও ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। নেতানিয়াহু বারবার বলেছেন, তিনি ইরানকে এই সক্ষমতা বাড়াতে দেবেন না। বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি শুনেছেন ইরান 'খারাপ আচরণ' করছে এবং তারা যদি পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যায়, তবে তিনি ইসরায়েলি হামলা সমর্থন করবেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে গত এক বছরে ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। গত জুনে ইরান এবং ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় হামলা ছাড়াও মার্কিন বাহিনী সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া এবং নাইজেরিয়ায় বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে তার প্রথম মেয়াদে বাগদাদে ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি নিহত হয়েছিলেন।
বিবার্তা/এসএস
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]