
ঢাকার বাইরে একটি নাটকের শুটিং সেটে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলেন সহশিল্পী সামিয়া অথৈ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগ ওঠার পর শুরুতে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে তানজিন তিশা সাংবাদিকদের বলেছিলেন,পরে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেবেন তিনি। এরপর রাতে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন এই মডেল-অভিনেত্রী। তানজিন তিশা জানান, এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল না; যা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ চরিত্রের প্রয়োজনে এবং গল্পের চাহিদা অনুযায়ী।
তিশা বলেন, ‘আমি এতক্ষণ শুটিং করছিলাম। আমি চাইনি দৃশ্যটা শেষ না করে কাজটা ফাঁসিয়ে দিতে। অথচ যে লাইভটা করেছে, সে কিন্তু ইউনিটকে ফাঁসিয়ে দিয়ে গেছে। আমি শুধু আমার চরিত্রটা প্লে করেছি। এখানে আমি একজন স্পেশাল চাইল্ড—আমি যেটাকে অটিস্টিক বলি। যে কি না চরিত্রের প্রয়োজনে মারতে পারে, কামড় দিতে পারে, পানিতে চুবিয়ে মেরে ফেলতে পারে—এ রকম অনেক ঘটনা ঘটাতে পারে। কাজটা রিলিজ হলেই দেখতে পারবেন।’
তিশা আরো বলেন, ‘সে এমনভাবে লাইভ করেছে যেন আমি তাকে পারসোনালি অ্যাটাক করেছি। এখানে পারসোনালি অ্যাটাকের কিছুই নেই, তার বুঝতে ভুল হয়েছে। আমি যতটুকু করেছি, আমার চরিত্রের প্রয়োজনে করেছি। যতটুকু স্ক্রিপ্টে আছে, ততটুকুই করেছি। আমি চরিত্রের বাইরে কিছুই করিনি। এটা তার দুর্বলতা যে প্রফেশনাল সমস্যাটাকে ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে নিয়েছে ।’
তবে তিশার এই ব্যাখ্যাকে হাস্যকর বলে আখ্যায়িত করেছেন শোবিজের অনেকে। কেউ কেউ আবার অভিযুক্তর কথার সঙ্গে তানজিন তিশার উত্তরে আকাশ-পাতাল ব্যবধান মনে করছেন। অনেকে আবার তিশার অতীতের অনেক ঘটনা সামনে এনে কঠোর সমালোচনা করছেন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুক লাইভে এসে অথৈ দাবি করেন, নাটকের শেষ দৃশ্য ধারণের সময় স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে তিশা প্রকাশ্যে তাকে জোরে চড় থাপ্পড় মারেন। মারধরের ঘটনার পর শুটিং ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন অভিনেত্রী অথৈ। তিনি বলেন, ‘একটি দৃশ্যে সহশিল্পী তানজিন তিশাকে আমার চড় মারার দৃশ্য ছিল। গল্পে তিশার চরিত্রটি পাগলের। পরিচালক আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কিভাবে চড় মারতে হবে। আমি একদমই আলতোভাবে তাকে চড় মারি। কিন্তু ঘটনার পরেই তিশা আপুর মতো সিনিয়র শিল্পী আমাকে পাল্টা চড় মারেন। শুধু তা-ই নয়, শুটিংয়ে সবার সামনে এলোপাতারি চড়-থাপ্পড় ও খামচি মারেন।’
অথৈ আরও অভিযোগ করেন, ‘শুধু মঙ্গলবারই নয়, আগেরদিন সোমবারও একটি দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে হাতে আঘাত দিয়েছেন তিশা। আমি কিছু বলিনি। কিন্ত এবার এমন ঘটনা কোনোভাবেই মানতে পারছি না। তিনি সিনের মধ্যেই আমাকে মেরেছেন, মেরে গাল ফুলিয়ে দিয়েছেন। আমার চোখ ফুলে গেছে। আমার জীবনে শুটিংয়ে এমন অভিজ্ঞতা কখনও হয়নি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]