
আজকাল হাতে একটি ক্যামেরা বা মোবাইল, সঙ্গে কলম-প্যাড কিংবা একটি ট্যাব হাতে নিয়ে, ইউটিউবে দু’চারটি কথা বলে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র মিলছে।
প্রশ্ন হলো—কেন এমন হচ্ছে? সাংবাদিকতা কি এতটাই সহজ ও দায়িত্বহীন একটি পেশা?
প্রতিদিন প্রেসক্লাবের সামনে ও ভেতরে দেখা যায়, ক্যামেরা ও মোবাইল হাতে অসংখ্য মানুষ দল বেঁধে ঘুরছেন। কোনো অনুষ্ঠান হলে অনেকে আমন্ত্রণ না থাকা সত্ত্বেও ভেতরে ঢুকে পড়ছেন, ছবি তোলার জন্য ঠেলাঠেলি করছেন, এমনকি খাবার নিয়েও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বের হলে অনেকের কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়ার ঘটনাও চোখে পড়ে। ফলে একজন সাধারণ অতিথি বা আয়োজকের পক্ষে বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে—কে প্রকৃত সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করছেন।
অনেক অতিথি বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে বাধ্য হয়ে ১০০-২০০ টাকা করে দিয়ে সেখান থেকে চলে যান। কেউ প্রতিবাদ করেন না, কারণ তারা জানেন না—সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটি সত্যিই কোনো গণমাধ্যমের সাংবাদিক, নাকি শুধু সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ, সংশ্লিষ্ট সংগঠন, প্রেসক্লাব কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। ফলে দিন দিন এই প্রবণতা আরও বাড়ছে। গাড়ি, মোটরসাইকেল কিংবা বিভিন্ন সরঞ্জামে ‘প্রেস’ বা ‘সাংবাদিক’ লেখা লাগিয়ে অনেকেই এমনভাবে চলাফেরা করছেন, যেন সাংবাদিকতার পরিচয় তাদের সব ধরনের নিয়মের ঊর্ধ্বে নিয়ে গেছে।
এখানে বিষয়টি কোনো ব্যক্তিকে হেয় করা নয়; বরং প্রকৃত সাংবাদিকতার মর্যাদা ও পেশার প্রতি মানুষের আস্থা রক্ষা করা। একজন প্রকৃত সাংবাদিক শুধু ক্যামেরা, মোবাইল, কলম-প্যাড বা একটি ইউটিউব চ্যানেলের মালিক নন। সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা—যেখানে নৈতিকতা, পেশাগত যোগ্যতা, তথ্য যাচাই, সত্য প্রকাশের সাহস এবং জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কয়েকজনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ভার যেন পুরো সাংবাদিক সমাজকে বহন করতে না হয়। তাই প্রকৃত সাংবাদিকদের স্বার্থেই ভুয়া পরিচয়, চাঁদাবাজি, অনুষ্ঠানে অনধিকার প্রবেশ এবং সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।সাংবাদিক কমোনিটি, তথ্য মন্ত্রনালয় প্রশাসন সবাইকে এই ব্যাপারে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
লেখক: আবু তাহের খোকন (গণমাধ্যমকর্মী, বাংলাদেশ প্রতিদিন)।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]