কোনো ব্যাংকই আর দলের হয়ে কাজ করতে পারবে না: গভর্নর
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ২৩:৪৬
কোনো ব্যাংকই আর দলের হয়ে কাজ করতে পারবে না: গভর্নর
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংক একটি সুনির্দিষ্ট দল ও গোষ্ঠীর প্রতি অনুগত হয়ে কাজ করেছে। এ কারণে ব্যাংকটিতে ব্যাপক লুটপাটের সুযোগ মিলেছে। তবে এখন থেকে ইসলামী ব্যাংক আর কোনো গ্রুপ বা দলের হয়ে কাজ করবে না। কিংবা পরিবারের হয়ে কাজ করার সুযোগও দেওয়া হবে না। শুধু ইসলামী ব্যাংকই নয়, কোনো ব্যাংকই এখন আর দলের হয়ে কাজ করতে পারবে না। পেশাদারিত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে।


সোমবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে এককভাবে এটাই তার প্রথম বৈঠক।


বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাদের ব্যাংকে লুটপাটের ধরন তুলে ধরেন। পাশাপাশি ব্যাংকটি যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেগুলোও বলেন। ব্যাংকটিকে আরও এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কিছু নীতি সহায়তাও চাওয়া হয়।


জবাবে গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংক একসময় অত্যন্ত শক্তিশালী একটি ব্যাংক ছিল। কিন্তু মাঝখানে বেশ কিছু সময় ব্যাংকটিতে সুশাসনের চরম ঘাটতি দেখা দেয়। ব্যাংকটি ভালো রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের সহযোগিতা করে যাবে।


সূত্র জানায়, বিদেশ থেকে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক শীর্ষ অবস্থানে ছিল। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। ওই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারা প্রবাসীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের রেমিট্যান্স আহরণ করত। এতে ব্যাংকটির বৈদেশিক মুদ্রা যেমন পর্যাপ্ত ছিল, তেমনি আমানতের পরিধিও বাড়ছিল। হঠাৎ এতে কিছুটা ছেদ পড়ে।


বৈঠকে এ প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংককে রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে আবার জোর দিতে হবে। আরও বেশি করে রেমিট্যান্স আহরণ করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশে ডলারের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। এই সময়ে আগে থেকে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়িয়ে ডলারের জোগান বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।


একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে বা বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো চালু করার জন্য নতুন করে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ খাতে প্রয়োজনে নীতিমালার আওতায় ছাড় দিয়ে খেলাপি ঋণ নবায়ন করে কারখানা চালু করার সুযোগ দিতে বলেন তিনি। এ জন্য উদ্যোক্তাদের ব্যাংকে ডেকে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করার নির্দেশনা দেন গভর্নর।


বিবার্তা/এমবি


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com