
‘লজ্জা নারীর ভূষণ’—বহুল প্রচলিত এই প্রবাদটির সমালোচনা করে এটি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক।
শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক বৈষম্য ও অসম দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ভিডিওতে চমক প্রশ্ন তোলেন, সমাজে ‘লজ্জা’ শব্দটির ব্যবহার কীভাবে করা হয়। তার ভাষ্য, পরিবারের কেউ অন্যায় বা অপরাধ করলে মানুষ বলে, তারা লজ্জিত। আবার রাষ্ট্রে বড় কোনো অপরাধ ঘটলেও সরকার দুঃখ প্রকাশ করে। অর্থাৎ, ‘লজ্জা’ একটি অত্যন্ত ভারী শব্দ। তাহলে এই ভারী শব্দটির সম্পূর্ণ দায় কেন যুগের পর যুগ শুধু নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে?
চমক বলেন, ‘লজ্জাটা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবারই থাকা উচিত। সেই দায়ভারটা শুধুমাত্র নারী যুগে যুগে বয়ে বেড়াবে—“লজ্জা নারীর ভূষণ” বলে, এটা আসলে হওয়া উচিত না।’
সমাজে সম্মান ও সম্পত্তির বণ্টনের বৈষম্য নিয়েও কথা বলেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, পরিবারের মান-সম্মান, ইজ্জত কিংবা লজ্জার প্রশ্ন উঠলে প্রায়ই সব দায়ভার বাড়ির মেয়েদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সম্পত্তির অধিকার বা বণ্টনের ক্ষেত্রে পুরুষদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়।
চমকের মতে, এই দ্বৈত মানদণ্ড পরিবর্তন করা প্রয়োজন। সম্পত্তির মতোই সামাজিক দায়ভারও নারী ও পুরুষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হওয়া উচিত।
বক্তব্যের শেষাংশে ইতিহাসের একটি নির্মম অধ্যায়ের প্রসঙ্গও টানেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, কেবল পুরুষ হয়ে জন্মানোর কারণে কোনো শিশুকে জন্মের পর পরিবার জীবন্ত কবর দেয়নি। কিন্তু একসময় কন্যাশিশু বা নারী হয়ে জন্মানোর কারণে অসংখ্য শিশুকে নির্মমভাবে কবর দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে চমক বলেন, ‘ছি! কী লজ্জা! আমি লজ্জিত।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই চমকের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। লিঙ্গসমতা ও সামাজিক সংস্কারের পক্ষে তার এই বক্তব্যকে অনেকেই জোরালো বার্তা হিসেবে দেখছেন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]