
বিশ্ব সেরা কিংবদন্তি পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন প্রয়াত হয়েছেন প্রায় ১৭ বছর। তবুও জনপ্রিয়তার এখনো ঘাটতি নেই। তিনি রয়েছেন পপ তারকাদের মধ্যে মহারাজা হিসেবেই। এই মহারাজাকে নিয়ে নির্মিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ বিশ্বব্যাপী মুক্তির দিনে একইসঙ্গে দেখতে পারবেন বাংলাদেশের দর্শকরাও। স্টার সিনেপ্লেক্সে শুক্রবার থেকে চলছে সিনেমাটি। স্টার সিনেপ্লেক্স এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্টার সিনেপ্লেক্সের আটটি শাখায় সিনেমাটির ২৭টি শো চলছে।
সিনেমার ট্রেইলার মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের সিনেমাটি নিয়ে প্রত্যাশা দেখা গেছে। বাংলাদেশেও সিনেমাটি সাড়া তৈরি করবে বলে মনে করেন স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, "সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও মাইকেল জ্যাকসনের প্রচুর ভক্ত রয়েছেন। সেই আশি-নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে এই সময়েও পপসংগীত শ্রোতাদের কাছে সম্রাট হয়ে আছেন মাইকেল। তার বায়োপিক দেখার আগ্রহ আছে সবার। এরই মধ্যে অনেক দর্শক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, অগ্রিম টিকেটের খোঁজ নিচ্ছেন। সিনেমাটি সবার মন জয় করবে বলে আমরা আশাবাদী।"
জ্যাকসন এস্টেটের সহায়তায় নির্মিত সিনেমাটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে লায়ন্সগেট এবং জিকে ফিল্মস।
বহুপ্রতিক্ষীত এই বায়োপিকে ‘জ্যাকসন-ফাইভ’ এ মাইকেল জ্যাকসনের পথচলা থেকে শুরু করে তার বিশ্বতারকা হয়ে ওঠা- সবই উঠে এসেছে। একটা সময় ‘কিং অব পপ’ হয়ে ওঠা এই মহাতারকার বিভিন্ন পারফরম্যান্স এবং তার জীবনের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের গল্প ভক্তদের কাছে তুলে ধরতেই মূলত এই বায়োপিক নির্মিত হচ্ছে।
সিনেমার নাম ভূমিকায় রয়েছেন মাইকেলের ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। এটিই তার প্রথম সিনেমায় অভিনয়।
সিনেমাটির মূল কারিগর হিসেবেও আছেন দুজন মানুষ। তারা হলেন নির্মাতা ‘ট্রেইনিং ডে’, ‘দ্য ইকুয়ালাইজার’ খ্যাত পরিচালক অ্যান্টোইন ফুকুয়া। সিনেমার চিত্রনাট্য করেছেন ‘গ্লাডিয়েটর’ ও ‘র্যাংগো’ খ্যাত জন লোগান।
পপ মহাতারকার চরিত্রটি সিনেমার পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে ফুকুয়া নিজে আত্মবিশ্বাসী হলেও মূল কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন জাফারকে।
“সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি হচ্ছে জেফার, যিনি মাইকেলকে ফুটিয়ে তুলেছে। শারীরিক সাদৃশ্য ছাড়াও সে যেন কোনো এক জাদুকরি উপায়ে মাইকেলের আত্মাকেও ধারণ করেছে। এ কথা বিশ্বাস করতে হলে আপনাকে এটি দেখতে হবে।”
সিনেমায় মাইকেলের বাবা জো জ্যাকসনের ভূমিকায় কোলম্যান ডমিঙ্গো এবং মা ক্যাথরিন জ্যাকসনের ভূমিকায় নিয়া লং অভিনয় করেছেন। এছাড়া বিনোদন আইনজীবী জন ব্রাংকার ভূমিকায় মাইলস টেলার, সঙ্গীত প্রযোজক সুজান ডি পাসের ভূমিকায় লরা হ্যারিয়ার অভিনয় করেছেন।
এছাড়া ডায়না রসের ভূমিকায় রয়েছেন ক্যাট গ্রাহাম এবং মোটাউনের প্রতিষ্ঠাতা বেরি গোর্ডির ভূমিকায় আছেন ল্যারেঞ্জ টেট।
মাইকেল জ্যাকসনের ভাইবোনের মধ্যে জার্মেইনের চরিত্রে জামাল আর. হেন্ডারসন, মার্লনের চরিত্রে ট্রে হর্টন, টিটোর চরিত্রে রায়ান হিল, জ্যাকির চরিত্রে জোসেফ ডেভিড-জোন্স এবং লা টয়ার চরিত্রে জেসিকা সুলা অভিনয় করেছেন।
আর জ্যাকসন-ফাইভ যুগের তরুণ মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন জুলিয়ানো ভালদি।
জ্যাকসন পরিবারের পাঁচ ভাই জ্যাকি, টিটো, জার্মেইন, মার্লন এবং মাইকেল মিলে ‘জ্যাকসন-ফাইভ’ নামের পপ ব্যান্ড গড়ে তোলেন। ১৯৬৪ সালে ইন্ডিয়ানা রাজ্যের গ্যারিতে আত্মপ্রকাশ করে এই ব্যান্ড, যা পরে ‘দ্য জ্যাকসনস’ নামে পরিচিতি পায়।
২০০৯ সালের ২৫ জুন পৃথিবীর মায়া কাটান মাইকেল জ্যাকসন।
১৯৮২ সালে প্রকাশিত হওয়া মাইকেল জ্যাকসনের ষষ্ঠ একক অ্যালবাম 'থ্রিলার' বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। সেসময় থেকেই তাঁকে 'কিং অব পপ' বলা শুরু হয়। দীর্ঘসময় ধরে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যবসাসফল গানের অ্যালবামের স্থানটি দখল করেছিল ‘থ্রিলার’। তাকে বলা হত সর্বপ্রথম কৃষ্ণাঙ্গ তারকা, যিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]