
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) প্রশাসনিক ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ নিয়মিত অফিস সময় অনুসরণ করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে সকাল ৯টায় অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১০টায় একাধিক কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল। কোথাও কক্ষে ফ্যান চললেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। একইভাবে নির্ধারিত মধ্যাহ্ন বিরতি শেষ হওয়ার পরও অনেক দপ্তর দীর্ঘ সময় ফাঁকা দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক ভবনে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত অফিস সময় মেনে দায়িত্ব পালন করছেন না। সূত্রগুলোর ভাষ্য, কেউ সকাল ১০টার পর অফিসে আসেন, কেউ মধ্যাহ্ন বিরতির পর বিকেল ৩টার দিকে দপ্তরে ফেরেন, আবার কেউ কেউ দুপুরের পর আর অফিসে ফিরে আসেন না। বিশেষ করে ক্যাম্পাসে বসবাসকারী কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ বেশি রয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সকাল ১০টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা যায়, ১২টি কক্ষে মোট ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুপস্থিত। কয়েকটি কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল। কোথাও ফ্যান ও বৈদ্যুতিক বাতি চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী কক্ষে ছিলেন না। কয়েকটি দপ্তরের পিয়ন জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তখনও অফিসে আসেননি। এ সময় কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সকাল ১০টা ২০ মিনিট বা তারও পরে অফিসে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
অফিসে অনুপস্থিত থাকা কয়েকজনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কেউ জানান, তিনি অফিসের কাজেই বাইরে রয়েছেন। আবার কেউ বলেন, তিনি অফিসে এসেছেন, তবে কক্ষে নেই।
পরে দুপুর ২টা ১০ থেকে ২টা ২০ মিনিটের মধ্যে পুনরায় প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ দপ্তরের কক্ষ ফাঁকা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত মধ্যাহ্ন বিরতির সময় দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত, তবুও ওই সময়ের পরও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ কক্ষে পাওয়া যায়নি।
এ সময় কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেউ জানান, তিনি মধ্যাহ্নভোজে রয়েছেন। কেউ বলেন, তিনি দুপুর ১টার পর বা দেড়টার দিকে মধ্যাহ্নভোজে যান, তাই ফিরতে দেরি হয়। আবার একজন কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি অফিসেই আছেন এবং কাজে ব্যস্ত। তবে সরেজমিনে তার কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পিয়ন জানান, ওই কর্মকর্তা এখনো মধ্যাহ্নভোজ থেকে ফেরেননি। অপর একজন কর্মকর্তা বিকেল ৩টার দিকে অফিসে এসে জানান, তিনি দুপুর ২টার পরে মধ্যাহ্নভোজে গিয়েছিলেন, তাই ফিরতে ৩টা বেজে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেন, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তারা প্রশাসনিক ভবনে অফিসের সময় মেনে চলার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখে আসছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনিক তদারকি তুলনামূলক কম থাকায় অনেকেই নিজেদের সুবিধামতো অফিসে আসা-যাওয়া করেন এবং এ সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে থাকলে এবং কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যও অবগত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস করতে হবে। তবে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে অফিসের কাজে বাইরে থাকেন, তাহলে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দায়বদ্ধ থাকবেন।"
বিবার্তা/ফাহিম/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]