প্রশাসনিক কর্মচারীদের মারধর: শেকৃবির দুই ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব পুনর্বহাল
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪৮
প্রশাসনিক কর্মচারীদের মারধর: শেকৃবির দুই ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব পুনর্বহাল
শেকৃবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্সে সুযোগ না থাকলেও মানবিক কারণ বিবেচনায় ড্রপআউট হওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) দুই নেতার ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শাখা ছাত্রদলের একাংশের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


ছাত্রত্ব পুনর্বহাল হওয়া দুজন হলেন ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের মো. ফরহাদ হোসেন এবং ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল্লাহ আল মারুফ। ফরহাদ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মারুফ সংগঠনটির সক্রিয় কর্মী। কয়েক মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে কর্মচারীদের মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বাদী হয়ে যে মামলাটি করেন, সেখানে ফরহাদ ১ নম্বর এবং মারুফ ৩ নম্বর আসামি।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৮৩তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ফরহাদ ও মারুফের আবেদন পর্যালোচনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ৮৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর তাদের ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফরহাদ হোসেন ২০১৮ সালে প্রথম বর্ষে অকৃতকার্য হওয়ার পর ২০১৯ ও ২০২০ সালে পুনঃভর্তি হয়েও ‘এজিইসি-১০৯’ কোর্সে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়। পরে তিনি পরিকল্পিত বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আবেদন করলে তদন্ত কমিটি তার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষা করে কোনো অসঙ্গতি পায়নি। একই সঙ্গে কমিটি স্পষ্টভাবে মত দেয় যে, বিদ্যমান অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী তার ছাত্রত্ব পুনর্বহালের কোনো সুযোগ নেই।


অন্যদিকে, আব্দুল্লাহ আল মারুফ ২০১৯ সালে কম উপস্থিতির কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি এবং ২০২০ সালে সব কোর্সে অকৃতকার্য হন। ২০২১ সালে পুনঃভর্তি না করায় তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং পিতৃহারা হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে আবেদন করলে তদন্ত কমিটি জানায়, সাধারণ নিয়মে সুযোগ না থাকলেও মানবিক বিবেচনায় তাকে লেভেল-১, সেমিস্টার-১-এ পুনঃভর্তির বিশেষ সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।


এ সিদ্ধান্তে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শাখা ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা। তবে দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা কেউই প্রকাশ্যে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।


তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন বলেন, “তদন্ত কমিটি বিধিমোতাবেক যৌক্তিক অভিমত দিয়েছিল। তবে একাডেমিক কাউন্সিল একটি বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম। সেখানে সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।”


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, “মানবিক ও রাজনৈতিক আবেদন বিবেচনায় একাডেমিক কাউন্সিল এবং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”


বিবার্তা/ফাহিম/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com