
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিনিধিকে বক্তব্য দেওয়ার পর বাংলাদেশ ছাত্রশিবির শেকৃবি শাখা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" স্লোগান দিয়ে অনুষ্ঠান বর্জন করে অডিটোরিয়াম ত্যাগ করেন।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের প্রতিনিধির বক্তব্য শেষে বাংলাদেশ ছাত্রশিবির শেকৃবি শাখা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" স্লোগান দিতে দিতে অডিটোরিয়াম ত্যাগ করেন। এ সময় তারা বলেন, ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে যদি ছাত্রদলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশ ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিদেরও একই সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
ছাত্রশিবির শেকৃবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান বলেন, “আজ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানালেও শুধু ছাত্রদলের তিনজনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে মঞ্চে অতিথিদের আসনে বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের আচরণ অতীতে ছাত্রলীগ করত। এটি জুলাইয়ের চেতনাকে অস্বীকার করার শামিল। ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্র প্রতিনিধি নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান, কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়। এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ ছাত্রশিবির ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। এর প্রতিবাদে আমরা নবীনবরণ অনুষ্ঠান বয়কট করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছি।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাইম ইসলাম বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বৈষম্য দূর করে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আমরা আজ দেখছি, প্রশাসন আবারও সেই বৈষম্যমূলক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি করছে। অতীতেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট একটি ছাত্রসংগঠনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, অন্যরা বঞ্চিত থাকত। আজও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে শুধু ছাত্রদলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, অথচ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—যদি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না থাকে, তাহলে সেটি কারও জন্যই থাকবে না। আর যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তা সব ছাত্রসংগঠনের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র একটি সংগঠনকে সুযোগ দেওয়া বৈষম্যমূলক। আমরা সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি এবং থাকব। সেই অবস্থান থেকেই আমরা আজকের অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এ বিষয়ে শেকৃবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী বলেন, “অনুষ্ঠানে অনেক অতিথি থাকায় সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে শুধু ছাত্রদলের একজন-দুজন প্রতিনিধিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তবে সময়ের অভাবে তাদের বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি গতকাল রাতেই তাদের জানানো হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সবাইকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে। তবে এত বড় আয়োজনে অনুষ্ঠান বর্জনের মতো আচরণ শিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কাম্য ছিল না।”
উপাচার্য ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, সবাইকে কথা বলার সুযোগ দিতে পারলে ভালো হত। তবে সময় স্বল্পতার জন্য আমরা পেরে উঠিনি। অরিয়েন্টেশন এর জন্য কমিটি আলোচনা করে বক্তাদের সিলেক্ট করেছে।
বিবার্তা/ফাহিম/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]