জাবির প্রক্টর অফিসে দীর্ঘ ৬৫ দিনের তালা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ২১:৩৩
জাবির প্রক্টর অফিসে দীর্ঘ ৬৫ দিনের তালা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
সামিয়া তাসনীম স্বাতী, জাবি
প্রিন্ট অঅ-অ+

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার বিচারের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ১৬ মে সকাল ১০টায় প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। ঘটনার প্রায় ৬৫ দিন পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক দপ্তর এখনও বন্ধ রয়েছে। এতে একদিকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে প্রক্টরিয়াল বডির স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।


এরই মধ্যে মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিচারের দাবিতে প্রক্টর অফিস দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই। এ ছাড়া প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটও অনুমোদন দিয়েছে।


উল্লেখ্য, গত ১২ মে রাত প্রায় ১১টার দিকে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল ও আলবেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশসংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে এক বহিরাগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।


তবে আন্দোলনের বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। দাবি নির্ধারণ, কর্মসূচির ধরন, সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ, প্রক্টরকে অশালীন ভাষায় সম্বোধন এবং উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়াসহ নানা বিষয়কে ঘিরে বিভক্তি দেখা দেয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আগের তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেয়। সেই তালাই এখনও বহাল রয়েছে।


ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দপ্তরগুলোর দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানাকে কমিটির সভাপতি এবং উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফকে সদস্যসচিব করা হয়।


গত ১৪ জুন উপাচার্য জানিয়েছিলেন, ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভার পর প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়া হবে। তবে ওই সভা শেষ হলেও এখন পর্যন্ত অফিসটি খুলে দেওয়া হয়নি।


দীর্ঘদিন ধরে প্রক্টর অফিস বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা তদারকি, শিক্ষার্থীসেবা এবং প্রশাসনিক নানা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমানে প্রক্টরকে জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ অথবা আ ফ ম কামালউদ্দীন হলের অফিস থেকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে প্রক্টর অফিস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।


এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইতিহাস বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শামীম হোসেন বলেন, “প্রক্টর অফিস তালাবদ্ধ থাকার কারণে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রয়োজনের সময় অফিসে গিয়ে বন্ধ পেয়েছি। এই অবস্থায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দায়ভার কে নেবে? শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যেখানে প্রক্টর অফিস সার্বক্ষণিক সচল থাকার কথা, সেখানে প্রায় দুই মাস ধরে এটি বন্ধ রয়েছে।”


প্রক্টর অফিসে তালা দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন সজিব আহমেদ জেনিচ বলেন, “ঈদের পরে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। প্রক্টরিয়াল বডি পুনর্গঠনসহ আমরা বেশ কিছু দাবি দিয়েছি। প্রশাসন আমাদের এক সপ্তাহ সময় নিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো অগ্রগতির কথা জানানো হয়নি। আমরা এই প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তালা খুলব না।”


প্রক্টরিয়াল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা প্রশাসনকে দ্রুত বিষয়টির সমাধান করতে বলেছি। এখনো পর্যন্ত আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে প্রক্টরও পদত্যাগ করছেন না, যা আমাদের কাছে বেশ সন্দেহজনক।”


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, তারা তদন্তের ফলাফলে সন্তুষ্ট নয় এবং বিচার সঠিকভাবে হয়নি। আমরা শিক্ষার্থীদের বক্তব্য পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারি না। একই সঙ্গে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তও অমান্য করা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুতই প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”



বিবার্তা/সামিয়া/এসএম


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com