ধানের পোকা দমনে ‘আল্ট্রাসনিক’ প্রযুক্তি: বছরে বাঁচবে শত কোটি টাকা
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৪১
ধানের পোকা দমনে ‘আল্ট্রাসনিক’ প্রযুক্তি: বছরে বাঁচবে শত কোটি টাকা
বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

সংরক্ষিত ধানে পোকামাকড়ের আক্রমণে প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়তে হয় কৃষকদের। এই ক্ষতি কমাতে আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এক উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। রাসায়নিকমুক্ত নতুন এই প্রযুক্তিটিকে সকলের কাছে পরিচিত করে তুলতে ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট আল্ট্রাসনিক পেস্ট কন্ট্রোল সিস্টেম ফর পোস্ট-হারভেস্ট লস রিডাকশন ইন স্টোরড প্যাডি’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়।


বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন কার্যালয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার (বাউরিক)।


কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদের সভাপতিত্বে কর্মশালার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউরিকের আরএলসি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শরিফুল হক ভূঁইয়া।


কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আওয়াল। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধানের সংরক্ষণকালীন সময়ে মোট ধানের প্রায় ৭ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হয়। এর প্রধান কারণ পোকামাকড়ের আক্রমণ। দেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া পোকা ও ছত্রাকের বিস্তারের জন্য অনুকূল হওয়ায় এই ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। দেশের মোট ধান উৎপাদনের মাত্র ৫ শতাংশ ক্ষতি রোধ করা গেলে বছরে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব। পাশাপাশি ধানের বীজের অঙ্কুরোদগম হার অন্তত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন বীজ সাশ্রয় হবে। এর আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।'


নতুন প্রযুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রেইন গার্ড’ একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাই। মানুষের কানে অশ্রাব্য উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তরঙ্গ তৈরি করে। এই তরঙ্গ ধানের ক্ষতিকর পোকা ‘রাইস উইভিল’-এর স্নায়ুতন্ত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং তাদের চলাচল, খাদ্য গ্রহণ ও প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। ফলে পোকাগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে শস্য থেকে সরে যায়। এতে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই শস্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।


এসময় গবেষণার ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রধান গবেষক জানান , 'ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট আল্ট্রাসনিক পেস্ট কন্ট্রোল সিস্টেম ফর পোস্ট-হারভেস্ট লস রিডাকশন ইন স্টোরড প্যাডি’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় পাঁচ বছর আগে এ গবেষণার ধারণা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার (বাউরিক)-এর অধীনে এজ (ইডিজিই) সাব-প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় দেড় বছর মেয়াদি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার নেতৃত্বে এবং সহযোগী গবেষক অধ্যাপক ড. এহসানুল কবিরের অংশগ্রহণে একটি গবেষক দল ‘গ্রেইন গার্ড’ যন্ত্রটির উন্নয়ন, নকশা, পরীক্ষামূলক বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ে যাচাই সম্পন্ন করেছে।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, কৃষিতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনই ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তার মূল চালিকা শক্তি। ধান-চালে পোকার সমস্যার সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। তবে এটি সমাধানে আগে তেমন একটা পদক্ষেপ দেখা যায়নি। প্রযুক্তিনির্ভর এই সমাধানটি ধান সংরক্ষণকে আরও আধুনিক ও টেকসই করতে সহায়তা করবে বলে আশা রাখছি। পাশাপাশি এই প্রযুক্তির যেসকল সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।


বিবার্তা/আমানুল্লাহ/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com