কুবিতে 'থাপ্পড় কাণ্ডে' দেরিতে অভিযোগ দেওয়ায় শিক্ষককে প্রশাসনের শোকজ
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫০
কুবিতে 'থাপ্পড় কাণ্ডে' দেরিতে অভিযোগ দেওয়ায় শিক্ষককে প্রশাসনের শোকজ
কুবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের অ্যাকাডেমিক মিটিংয়ে দুই শিক্ষকের 'থাপ্পড় কাণ্ডে'র ঘটনায় বিচারের দাবিতে পুনরায় অভিযোগপত্র জমা দিলে এক শিক্ষককে দেরিতে অভিযোগ প্রদানের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি থেকে বিষয়টি জানা যায়।


চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর আইন বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির ১২১তম সভা চলাকালীন শারীরিক হামলা/লাঞ্ছিত বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট লিখিতভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তৎকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে চলতি বছরের ৯ই ফেব্রুয়ারি পুনরায় লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এমতাবস্থায়, বিগত ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর সংঘটিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট লিখিত অভিযোগপত্র এবং চলতি বছরের ৯ই ফেব্রুয়ারি পুনরায় লিখিত অভিযোগপত্র দেরিতে দাখিল করার কারণ আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে জানতে চেয়েছে প্রশাসন।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট বিভাগের ১২১ তম অ্যাকাডেমিক মিটিংয়ে কোর্স বিতরণ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা জড়িয়ে পড়েন মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং আলী মোর্শেদ কাজেম। বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে অভিযুক্ত আলী মোর্শেদ কাজেম উনার আরেক শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিক থাপ্পড় মারেন। এতে করে আবু বকর ছিদ্দিকের চশমা ভেঙে যায়।


উক্ত বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা আবু বকর ছিদ্দিক তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আব্দুল মঈন প্রশাসনের কাছে কোন লিখিত অভিযোগপত্র জমা না দিয়ে আট মাস পর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অধ্যাপক ড. জাকির ছায়াদুল্লার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কাছে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।


আটমাস বিলম্বে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি সম্পর্কে ঘটনার দিনই সাবেক উপাচার্য ও আইন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. এ এফ এম আব্দুল মঈনের সাথে দেখা করে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। কিন্তু উক্ত শিক্ষক (আলী মুর্শেদ কাজেম) তখন উপাচার্যপন্থী হওয়ায় এবং উপাচার্যের আস্থাভাজন হওয়ায় বিষয়টি ওখানেই মিটমাট করে ফেলতে উপাচার্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর শিক্ষকদের মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে কেন পত্রিকায় সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করলো এটা নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তিনি উপ-উপাচার্যের সাথে মিলে ষড়যন্ত্র করেছেন বলে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়।


অভিযোগ পত্রে তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার প্রেক্ষিতে লিখিত অভিযোগ না দিতে উলটো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তুলা হয় এবং লিখিত অভিযোগ দিলে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের হুমকি দেওয়া হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে বিষয়টির বিচারের ভার উপাচার্যের (তৎকালীন) ওপর ছেড়ে দিলে তিনি রাগান্বিত হয়ে মিটিং ছেড়ে উঠে যায় এবং বিষয়টি বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে মীমাংসিত হয়ে গেছে মর্মে রিজোলুশন নিয়ে আসতে বলেন। উপাচার্যের এমন মন্তব্যে তিনি হতভম্ব হয়ে যান এবং বিষয়টি সেভাবেই অমিমাংসিত থেকে যায় বলে উল্লেখ করেন।


আবু বকরের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনা ঘটার সময়ের উপাচার্য আব্দুল মঈন প্রশাসন কর্তৃক নানা ভয়-ভীতি প্রদর্শনের কারণে তিনি কোনো অভিযোগপত্র জমা দেননি। এদিকে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময় দিলেও, সেটা পার হয়ে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলীর নতুন প্রশাসন আসার দেড় বছর কেটে গেলেও সেই অভিযোগের কোন তদন্ত কিংবা সমাধান করা হয়নি।


এছাড়া অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার দীর্ঘ ১৮ মাস পর চলতি বছরের ৯ই ফেব্রুয়ারি আবু বকর ছিদ্দিক পুনরায় বিষয়টি তদন্ত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য নতুন করে চিঠি দেন। তবে প্রথম অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছিলেন, আলী মুর্শেদ কাজেম কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলা এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন কিন্তু পরবর্তী দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেন, সন্ত্রাসী হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার পাশাপাশি হত্যাচেষ্টা করা হয়।


তবে, বর্তমান প্রশাসনের দাবি, দুই শিক্ষকের মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার পরেও আবার নতুন করে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।


এবিষয়ে আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ঘটনা ঘটার পর তৎকালীন প্রশাসনের হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে কিছু করতে পারিনি। তারপরও অভিযোগ জানালে আমার চাকরি নিয়ে নিবে বলে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন প্রশাসনের কাছে আমি অভিযোগ দেই কিন্তু ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


তিনি আরও বলেন, এরপর আমি গত ৮ ফেব্রুয়ারি পুনরায় চিঠি দেই প্রশাসনকে। কিন্তু পরবর্তীতে একটা চিঠি পেয়ে খুব অবাক হলাম, কেন দেরিতে অভিযোগ দিয়েছি, সেজন্য আমার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে প্রশাসন। দুই-দুইটা অভিযোগ থাকার পরেও একজনের শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে, উল্টা আমাকে শোকজ করা হয়েছে। একজন বিচার প্রার্থী হিসেবে যেখানে বিচার পাওয়ার কথা, সেখানে শোকজ পেয়ে গিয়েছি।


এবিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, উনি দেরিতে অভিযোগ দিয়েছেন। তারপর অভিযোগের ধরন দুই রকম পাওয়া গেছে। প্রথমটায় বলেছেন উনাকে মারতে এসেছিল আর দ্বিতীয়টায় অভিযোগ করেছেন হত্যাচেষ্টা। এখন উনাকে কারণ দর্শনো হয়েছে যে, উনি কেন দেরি করে অভিযোগ করেছেন এবং দুই অভিযোগপত্রে কেন দুইরকম তথ্য দিয়েছেন।


এই ব্যাপারে আরেক শিক্ষক আলী মুর্শেদ কাজেমকে প্রশাসন থেকে কিছু জানানো হয়েছে কিনা বা তার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রার বলেন, 'তাকে এই ব্যাপারে আমরা এখনো কিছু জানাইনি। কোনো পদক্ষেপও নেইনি। উনি (আবু বকর ছিদ্দিক) আগে দেরিতে অভিযোগের মতামত দিবে। এরপর আমরা ব্যবস্থা নিব।


বিবার্তা/প্রসেনজিত/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com