
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায় এবং শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক গতিশীলতা ফেরানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত জানতে আগামী ২ মার্চ আলোচনায় বসছেন শিক্ষকরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উক্ত আলোচনা সভার আহ্বানকারী মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এই উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, 'একজন সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে বিবেকের তাড়নায় আমি উদ্যোগ নিয়েছি। শিক্ষকেরা বিভিন্ন সময়ে আমাকে এসে বলেছে যে, একটা প্লাটফর্ম থাকা উচিত। এইখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা অনেক ন্যায্য বিষয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ আছে। ফলে একটা মিটিং ডেকেছি। সেখানে শিক্ষকরা তাদের মতামত দিবেন। তারা যদি চায় তাহলে এটার কার্যক্রম আবার শুরু হবে।'
আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন কারণে শিক্ষকরা তাদের মৌলিক বিষয়গুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে শিক্ষক সমিতি গঠনের লক্ষ্যে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষক লাউঞ্জে এসে মতামত প্রদানের অনুরোধ করা হচ্ছে।'
শিক্ষক সমিতির সর্বশেষ কমিটির (তাহের-মেহেদী) বিভিন্ন 'বিতর্কিত' কর্মকাণ্ডের ফলে শিক্ষক সমিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের একটা আপত্তির ব্যাপার আছে, এই অবস্থায় কার্যক্রম চালুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'শিক্ষক সমিতির ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের আপত্তির কিছু নেই। ওই সময়ে যে শিক্ষক সমিতি এবং যে প্রশাসন ছিল, প্রশাসনের অনেক কর্মকাণ্ডে শিক্ষক সমিতির অনেক অভিযোগ ছিল। তো এখন শিক্ষক সমিতির দাবি দাওয়া থাকবে প্রশাসনের কাছে। এর ফলে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে এরকম কিছু হবে না।'
বর্তমান সময়ে শিক্ষক সমিতির কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে আমজাদ হোসেন বলেন, 'বিগত ১৭ মাসে অনেক ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এখানে শিক্ষকরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একজন শিক্ষক এইখানে পড়াচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি পদোন্নতি পাবেন। কিন্তু এইখানে বাইরে থেকে একজন শিক্ষক এনে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষকরা তাদের পেশাগত অধিকার চাইবে। প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে এগুলো দেখা।'
বর্তমান প্রশাসনের ব্যাপারে অভিযোগ তুলে আরও বলেন, 'গত প্রশাসনের আমলে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ভর্তি পরীক্ষার যে সম্মানী এটা একান্তই বিগত প্রশাসনের। কিন্তু এই প্রশাসনের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টর সবাই সেই সম্মানী ফাইনান্সিয়াল করাপশনের মাধ্যমে নিয়েছে। এই ব্যাপারে আমরা উপাচার্য স্যারকে জানালে উপাচার্য স্যার বলেন যে, এই টাকা ত আমি খরচ করিনি। এটা আমার অ্যাকাউন্টেই আছে। আপনারা চাইলে আমি দিয়ে দিব।'
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে আওয়ামী সমর্থিত নীল দল থেকে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান।
এরপর একই দিনে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের সঙ্গে শিক্ষক সমিতির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি দেখা করতে গেলে উপাচার্য দপ্তরেই হট্টগোল শুরু হয়। এই হট্টগোলের ফলে শিক্ষক সমিতি এবং উপাচার্যের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় মার্চ মাসে। সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষক সমিতি একাধিকবার কর্মবিরতি এবং ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেয়। এই পরিস্থিতির কারণে ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া দ্বন্দ্ব চলে ২৩ জুন পর্যন্ত। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
বিবার্তা/প্রসেনজিত/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]