তাছলিমার ১৩’শ টাকা থেকে হয়েছে ৩ লাখ
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২১, ১৮:৪৯
তাছলিমার ১৩’শ টাকা থেকে হয়েছে ৩ লাখ
নাজমা আক্তার নিশি
প্রিন্ট অ-অ+

মানুষের জীনকে নিয়ে কতই না স্বপ্ন থাকে। কেউ ইঞ্জিনিয়ার হবেন, কেউ ব্যাংকার, কেউ ডাক্তার হবেন আবার কেউ বা হবেন উকিল। আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতো ছোটবেলা থেকে জীবনকে নিয়ে তারও স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষ করে নিজে কিছু করবেন। শুধু যে নিজে স্বাবলম্বী হবেন, নিজের পায়ে দাঁড়াবেন তা নয়, সেই সাথে গরীব, অসহায় নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে তাদের পাশে দাঁড়াবেন। সে স্বপ্ন অবশ্য তা আজ বস্তবে রুপ নিয়েছে। এখন নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন গরীব, অসহায় নারীরা। শ্রম দিয়ে সুন্দর করে জীবন-যাপন করছেন তারা।


বলছিলাম বগুড়া জেলার নারী উদ্যোক্তা তাছলিম আক্তার নাসিমার কথা। শুধু মনের জোর আর সদ্বিচ্ছার কারণে একজন শূন্য থেকে শুরু করে নিজের চেষ্টা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে কীভাবে নিজের একটা আলাদা পরিচয় তৈরি করা যায় তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অদম্য সংগ্রামী নারী নাসিমা। আজ তিনি সফল নারী উদ্যোক্তা। এই পথটা সহজ ছিল না। অনেক কঠিন পরিক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সেই গল্প জানতে যেতে হবে আরো অনেক পেছেনে।


রংপুরের মীরবাগের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম তাছলিমা আক্তার নাসিমার। বাবা মীরবাগের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। বাবা ও মা দুজনেই শিক্ষিত। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে নাসিমা সবার ছোট। তার বাবার স্বপ্ন ছিল তিন বোনকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত ও মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বড় ভাই-বোনেরা সবাই শিক্ষিত।


নিজের ব্যবসায় মডেল স্বামী ও মেয়ে।


নাসিমার শৈশব ও কৈশোরের স্বর্ণালী দিনগুলো কাটে রংপুরেই। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পড়ালেখা করেন সেখান থেকে। কলেজ জীবন, সব কিছুই ছিল রঙিন। কলেজ ক্যাম্পাস, পড়ালেখা, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দেয়া, মুক্ত পাখির মতো ঘুরে বেড়ানো, সব কিছুই চলছিল স্বাভাবিক নিয়মে। হঠাৎ করেই বদলে গেলো তার জীবনের দৃশ্যপট। তখনও সবেমাত্র পড়ছিলেন উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষে। পারিবারিকভাবে হঠাৎ করে তাকে পাবনার পাত্রের সাথে দেয়া হয় বিয়ে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে পাস করেন। পরে যেতে হয় শ্বশুর বাড়িতে। শুরু হয় নতুন জীবন।


বিয়ের পর সব কিছু তার কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়। নিজের পড়ালেখার স্বপ্ন, অন্যদিকে বাবার স্বপ্ন পূরণ সবই বুঝি শেষ হয়ে গেল। কেননা শ্বশুর বাড়ি থেকে লেখাপড়া করা নিষেধ। বাড়ির বউ আবার লেখাপড়া করে নাকি। সব পরিস্থিতির কারণে তার মাথার উপরে যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। তখন পাশে কেউ ছিল না। নিজেকে খুব অসহায় লাগছিল তার। কি করবেন বুঝতে পারছিলেন না। অন্যদিকে, মনের মধ্যে লালিত স্বপ্ন তাকে বার বার তাগিদ দিতে থাকে। পড়ালেখা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। নিজে থেকে কিছু একটা করে নিজের পরিচিতি তৈরি করতে হবে। সেই সাথে অসহায় কিছু নারীর কর্সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।


নাসিমার বলেন, অনার্স এডমিশনের আর বেশি দিন নেই। কোন কিছু ভেবে না পেয়ে নিজের মনোবল শক্ত করলাম। একদিন সুযোগ বুঝে আমার স্বামীর দুর্বলতায় আঘাত করলাম। তাকে বললাম আমাকে পড়ালেখা না করালে আমি তোমার সাথে থাকতে পারবো না। আমি চলে যাবো। তখন স্বামী আমাকে একটা শর্ত দিলেন। যদি অনার্সের এডমিশনে চান্স পাই তাহলে পড়াবেন। আর ফেল করলে পড়াবেন না। আমিও তার শর্তে রাজি হয়ে যাই। এডমিশনে প্রথম মেরিটে সামনের সিরিয়ালে আমার নাম আসে। অনার্সে ভর্তি হলাম। শ্বশুর বাড়িতে সকল দায়িত্ব পালন করে নিয়মিত ক্লাস শুরু করি।


অনার্স প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে ফাস্টক্লাস ফাস্ট রেজাল্ট আসে নাসিমার। তৃতীয় বর্ষে এসে হন প্রেগন্যান্ট। তখন শ্বশুর বাড়ির সবাই বাড়ির কাজ কমপ্লিট করে একেবারেই গ্রামে চলে যান। আবারো একা হয়ে গেলেন তিনি। অসুস্থ শরীর নিয়ে তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দেন। এই অসুস্থতার সময় পাশে থাকার কেউ ছিল না। যদিও স্বামী ছিলেন, কিন্তু কাজের চাপে তাকে কোন হেল্প করতে পারতেন না। এমন কঠিন অবস্থাতেও তৃতীয় বর্ষেও ফাস্টক্লাস পান। চতুর্থ বর্ষে এসে কোল আলো করে আসে একমাত্র কন্যা সন্তান। মেয়ের বয়স তখন ৬ মাস। ওই শিশুকে রেখে পরীক্ষা দেন। টানা চার ঘন্টা পরীক্ষা দিয়ে এসে দেখতেন মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছে।


জীবনের কঠিন সময়ের একটা ঘটনার কথা বলতে গিয়ে নাসিমা জানান, অনার্স চতুর্থ বর্ষের একটা পরীক্ষা দিয়ে বাসায় এলাম। মাঝখানে একদিন বন্ধ। এই দিনটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়। হঠাৎ বাড়ি থেকে ফোন আসে বাবা খুবই অসুস্থ। সত্যটা হলো বাবা তখন এই পৃথিবীর সকল মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে গেছেন। কিন্তু আমাকে জানানো হয়নি। তিন ঘন্টা জার্নি করে বাবাকে দেখতে যাই। সেই দেখা ছিল আমার বাবার সাথে শেষ দেখা। বাবার জানাজা শেষ করে নিজেকে সান্ত্বনা দেয়ার মতো সময় পেলাম না। ওই মুহূর্তে আবার তিন ঘন্টা বাস জার্নি করে চলে আসতে হলো, কারণ পরের দিন সকাল হলেই অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা। অনার্স ফাইনালেও ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট রেজাল্ট পেলাম। এরপর ২০১৭ সালে এক বছরে মাস্টার্স কমপ্লিট করে ফাস্টক্লাস পাই। আমার প্রাতিষ্ঠানিক পড়ার জার্নি শেষ করি। কিন্তু আমার বাবাকে রেজাল্টটা শুনাতে পারলাম না।


নাসিমার কখনোই পরাধীনতা ভালো লাগতো না। পড়ালেখা শেষ করার পর পরিবার থেকে চাকরি করার কথা বলা হয়। চাকরির সুযোগও পেয়েও যান। চাকরি তার ভালো লাগতো না। তাই যোগ দেননি। জীবনটাকে একটা গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চান না। নাসিমার ভাষ্য, ২০১৭ সালে লেখাপড়া শেষ করে স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে নিজের সংসারে ব্যস্ত হয়ে যাই। আমার ভেতরে এমন একটি স্বপ্ন লালিত ছিল যে চাকরি নয়, আমি এমন কোন কাজ করবো যে কাজের মাধ্যমে আমার আশপাশের অসহায় বেকার নারীরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মের ব্যবস্থা হবে। গ্রামে আমাকে অনেকেই বলে আমি খুব নরম মনের মানুষ।মানুষের মনের কথা বাস্তবে রূপ দিতে আমার সাধ্য মতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। কিন্তু এভাবে একজন মানুষের পরিবর্তন ঘটনা সম্ভব না ।


কলেজ-ভার্সিটির বন্ধু-বান্ধবের সাথে যোগাযোগ, আড্ডার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করা হলেও তেমন কোন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে ব্যবহার করা হতো না তার। ২০২০ সালের ১৭ জুলাই মাস। সারাদেশে তখন চলছিল লকডাউন। সবাই ঘরে বসে সব কিছু অনলাইনে কেনাকাটা করে। নাসিমার ভাতিজি এসকে সুরমা তাকে দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জনপ্রিয় অনলাইন প্লাটফর্ম উম্যান অ্যান্ড ইকমার্স ফোরাম (উই) গ্রুপের সন্ধান দেন। অন্য পাঁচাটা গ্রুপে জয়েন করার মতোই উইতেও যুক্ত হন। সময় পেলে মাঝে মাঝে গ্রুপে ঘুরে বেড়ান। স্ট্যাটাস পড়েন। আস্তে আস্তে গ্রুপের নিয়ম কানুন তার ভাল লেগে যায়। গ্রুপের উপদেষ্টা ও প্রধান মেন্টর রাজিব আহমেদের নির্দেশ মতো চলতে থাকেন।


সারাদিন স্বামী, সংসার সামলে সময় পেলেই চলে আসেন উই গ্রুপে। এভাবে ভালোলাগা থেকে ছোটবেলার স্বপ্নটা মাথায় আবারো তার ভাবনাজুড়ে তাগিদ দিতে শুরু করে। নাসিমা বলেন, আমি আমার মনের ভেতরে নতুন কিছু করার তাগিদ অনুভব করি। এখনই উপযুক্ত সময় নিজে থেকে কিছু করার। উই গ্রুপে হাজার হাজার নারীরা সংগ্রাম করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলে আমি কেন পারবো না। আমাকেও পারতে হবে। যেভাবেই হোক আমি কিছু একটা করবোই। সিদ্ধান্ত নেই কিছু একটা করার। কিন্তু কী করবো?


এক সাথে মা ও মেয়ে।


সিদ্ধান্ত নেন ই-কমার্স বিজনেস করার। কিন্তু চাইলেই তো আর ই-কমার্স বিজনেস করে সফলতা অর্জন করা সম্ভব না। এর জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, বিজনেসের জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা। উইয়ের প্রধান মেন্টর রাজিব আহমেদের নির্দেশ মতো ডিজিটাল স্কিল ফর বাংলাদেশ (ডিএসবি) গ্রুপে কিছুদিন পড়া লেখা করেন। ই-কমার্স বিজনেস সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। আবার উইয়ে তিন মাস শুধু এক্টিভ থাকেন। এই গ্রুপে তিনি দিনে ১০ ঘন্টা সময় দেন। তখন পরিবার থেকে নানান ধরনের বাঁধা আসতে শুরু করে। সারাদিন ফোন নিয়ে থাকলে সংসার দেখবে কে, চোখের সমস্যা হবে, এসব ই-কমার্স বিজনেস করার দরকার নেই, এসব বাদ দিয়ে চাকরি করো আরো অনেক কথা শুরু করেন সাবাই। ফোন চাপলেই এসব কথা তাকে শুনতে হতো। তাই গোপনে গ্রুপে এক্টিভ থাকতেন। রাতে যখন স্বামী ও ছোট্ট মেয়ে ঘুমিয়ে পড়তো তখন তিনি এক্টিভ থেকে পরিচিতি বাড়াতে থাকেন।


নাসিমার ছোটবেলা থেকেই পেন্টিংয়ের প্রতি ভীষণ দুর্বলতা ছিল। পেন্টিং করতে খুব ভালো লাগতো। ২০১০ সালে হ্যান্ডপেইন্ট, ব্লক ও বাটিকের উপর একটি কোর্স করেন। পেইন্টিং ছিল তা নেশা। সেই ভালোলাগাকেই এখন কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু করলে কেমন হয়। তখন সিদ্ধান্ত নেন কাপড় কিনে পেন্টিং করে সেগুলো অনলাইনে বিক্রি করবেন। কিন্তু টাকা? পরিবার থেকে তো কেউ হেল্প করবে না।


হাতে ছিল মাত্র ১৩০০ টাকা। সেটা দিয়েই কাপড় কিনেন। হ্যান্ডপেন্টের ফ্যামিলি ম্যাচিং ড্রেস তৈরি করেন। আর এক কালার হাফ সিল্ক শাড়ি ও এক কালার উলের শাল নিয়ে উই গ্রুপে পোস্ট করেন। সেগুলো বিক্রি হয়ে যায়। মনে খুব আনন্দ লাগে। দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে আবার তৈরি করেন। পোস্ট দেন। তখন অনলাইনে ব্যবসাটাকে পরিচালনা করার জন্য ‘সৌন্দর্যে শতরূপা’ নামে একটা পেজ খুলেন। সেই পেজকে ব্র্যান্ডিং করতে শুরু করেন। মার্কেটিং করে কাস্টমারের কাছে পরিচিতি বাড়ান।


এভাবে দিন-রাত এক করে স্বামী-সংসার সামলে কঠোর পরিশ্রম করে নিজের ব্যবসাটা চালিয়ে নিতে থাকেন। কাজের কোয়ালিটিতে কাস্টমাররাও বেশা সাড়া দিতে থাকেন। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সেই যে শুরু অনলাইনে ব্যবসা আজ তিনি লাখপতি। উদ্যোগের বয়স ৯ মাস। ৩ মাস শুধু এক্টিভ থেকেছেন আর এই ৬ মাসে শুধুমাত্র উইয়ে পণ্য বিক্রি করেছেন ৩ লাখ টাকার। এর মধ্যে রমজান মাসের মধ্যে বিক্রি হয়েছে ১ লাখ আট হাজার টাকা।


নাসিমা কাজ করছেন ব্লক হ্যান্ডপেইন্টের ফ্যামিলি ম্যাচিং ড্রেস, এক কালার হাফসিল্ক শাড়ি, এক কালার উলের শাল ও বেবিড্রেস নিয়ে।


নারীর চলার পথ কখনো মসৃন নয়।পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়। নাসিমাও এর ব্যতিক্রম নন। নিজের স্বামী, সন্তান, সংসার সামলে একজন গৃহিনীর পক্ষে কোন উদ্যোগকে শূন্য থেকে দাঁড় করাতে কত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয় সেটা যারা করেন তারাই বুঝেন। নাসিমা সব সামলাতে গিয়ে হিমসিম খেয়েছেন। চলার পথে কঠিন সময় এসেছে কিন্তু থেমে যাননি। নিজের উপরে ভরসা ও আত্মবিশ্বাসই তাকে সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রেরণা যুগিয়েছে।


মহামারি করোনার প্রভাবে সারাদেশের প্রায় সবকিছু যখন স্থবির হয়ে গেছে তখন নিজের ব্যবসার কারণে বেশ ভালই চলছিল তার সবকিছু। আর এই পর্যন্ত আসার পেছনেও যার সবচেয়ে বড় অবদান সেটা হলো উই গ্রুপ। কৃতজ্ঞতা অন্তরে নাসিমার ভাষ্য, আমার এই ব্যবসার সাফল্যে উইয়ের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। যা হয়েছি সব কিছুই উইয়ের কারণে হয়েছি। এত দূর এসেছি শুধুই উইয়ের জন্য। আমার পথপ্রদর্শক উই। শুরুতে গ্রুপটাকে বেশি গুরুত্ব না দিলেও জয়েন হয়েই বুঝতে পেরেছি এটা একটা ভিন্ন মানের গ্রুপ। এখানে রয়েছেন নারী উদ্যোক্তা জগতের বড় বড় স্টাররা।


ই-কমার্সের পথপ্রদর্শক ও একজন বড় মাপের মেন্টর শ্রদ্ধেয় রাজিব আহমেদ স্যার। গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট প্রিয় নাসিমা আক্তার নিশা আপু। সবার ২৪ ঘণ্টা আন্তরিক চেষ্টা থাকতো কীভাবে পার্সোনাল ব্যান্ডিং, অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয় সব খুঁটিনাটি বিষয়ে শিক্ষা দেয়ার। নিয়মিত অনলাইনে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করার চেষ্টাটা ছিল আমার কাছে নতুন জীবনের দিশা। উইয়ের বায়ার সেলার মিটিং ওয়ার্কশপ ও মাস্টার ক্লাসগুলোতে অংশগ্রহণ করে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।আজকে আমার এই সাফল্যের পেছনে এই দুইজন ব্যক্তির সবচেয়ে বেশি অবদান। তাই মহান এই দুই ব্যক্তির প্রতি রইল অন্তর থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। দোয়া করি দুজন ব্যক্তি যেন সব সময় সুস্থ থেকে আমাদের পাশে এভাবে থাকতে পারেন আর আমাদের মেন্টর হিসেবে সাহায্য করতে পারেন।


শাড়ির মডেল মেয়ে।


অনলাইন ব্যবসা জীবনের প্রাপ্তি হিসেব নাসিমা বলেন, আমার ‘সৌন্দর্যে শতরূপা’পণ্য দেশের প্রায় ৩০ জেলায় পৌঁছে গেছে। শুধু তাই নয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে হাতের তৈরি পণ্য পৌঁছে গেছে বিশ্বের চারটি দেশে। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও সিঙ্গাপুর। আল্লাহর অশেষ রহমতে এখন আমার ব্যবসায় প্রায় ১০-১২ জন কর্মী কাজ করছেন, যার মাধ্যমে বেকার অসহায় নারীদের অর্থনৈতিক কিছুটা সমস্যা সমাধান হচ্ছে। আমার উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এর পাশাপাশি অসহায় নারীদের পাশে থাকতে চাই।


স্বপ্নের উদ্যোগকে নিয়ে উইয়ের হাত ধরে ভবিষ্যতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে চান অদম্য আত্মপ্রত্যয়ী এই উদ্যোক্তা। নাসিমা বলেন, নিজের উপর আত্মবিশ্বাস ও কঠোরপরিশ্রমের মাধ্যমে কোন কাজ সৎ উদ্দেশ্য ও সততা নিয়ে শুরু করলে সকল বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। আমার স্বপ্ন এখন নিজের হাতে বানানো পণ্য ৬৪টি জেলায় পৌঁছে দেওয়া। সেই সাথে আমাদের দেশীয় পণ্যগুলা বিশ্বের আরো অসংখ্য দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার। উদ্যোগকে অনেক বড় করতে চাই যেখানে কাজ করবে শত শত গরীব ও অসহায় নারীরা। এভাবেই অসহায় নারীর পাশে থাকতে চাই সব সময়। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। সকল যুদ্ধে যেন জয়ী হতে পারি।


বিবার্তা/গমেজ/জাই


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com