টাঙ্গাইলে পানি কমলেও ছাড়েনি বিপদসীমা
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৯, ২২:৪২
টাঙ্গাইলে পানি কমলেও ছাড়েনি বিপদসীমা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

টাঙ্গাইলের সবকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।তবে যমুনা নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ৫৪ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।যদিও রবিবার (২১ জুলাই)যমুনার পানি প্রবাহিত হয়েছে বিপদসীমার ৭৭ সে.মি. উপর দিয়ে। ধারাবাহিক ভাবে জেলার অপর দুটি বৃহৎ নদী ধলেশ্বরী নদীর পানি ৯ সে.মি. কমে ১৩২ সে.মি. এবং ঝিনাই নদীর পানি ১৮ সে.মি. কমে বিপদসীমার ৫৭ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


তবে বিপদসীমার নিচে রয়েছে এ জেলার পুংলী ও বংশাই নদী। এছাড়াও বন্যায় পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ৯টি উপজেলার চার লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এর ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে ফসলি জমি, পাকা ও গ্রামীণ জনপথ। তবে এ জেলার বন্যা কবলমুক্ত রয়েছে সখীপুর, মধুপুর আর ধনবাড়ী উপজেলা।



পানি কমার ফলে জেলার বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হলেও নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বাসাইল উপজেলা। বন্যা কবলিত আর পানিবন্দী এ জেলার পাঁচটি উপজেলা টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, নাগরপুর, দেলদুয়ার আর বাসাইলের ১৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও জেলার ৯টি উপজেলার ৪৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০০ গ্রামের বন্যার্তদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম খাদ্যাভাবসহ বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। তবে জেলার এই বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তার জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ এসেছে ৯০০ মেট্রিক টন চাল আর নগদ ১৮ লাখ টাকা। তবে ইতোমধ্যেই বরাদ্দপ্রাপ্ত ওই চালের ৬৩৫ মেট্রিক টন ও নগদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা সম্পন্ন হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।


সোমবার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার ৬টি উপজেলার ৪৪ ইউনিয়নের প্রায় ৪০০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ জেলার বন্যা আক্রান্ত উপজেলা গুলোর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল সদর, গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, ঘাটাইল, নাগরপুর, দেলদুয়ার, বাসাইল ও মির্জাপুর। নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি পরিবারের মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।


এছাড়া ২১ হাজার ৯৭৪টি পরিবারের আংশিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। এছাড়াও ভূঞাপুর উপজেলার ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ২ হাজার ৪০০ মানুষ।



অপরদিকে বন্যার পানি প্রবেশ করায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে অন্তত ১৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্যার ফলে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৮ কিঃমিঃ কাঁচা সড়ক। ১৪৫ কি.মি. কাঁচা ও ১ কি.মি.পাকা সড়কসহ ৪টি ব্রিজ কালভার্টের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও যমুনায় পানি বৃদ্ধি আর স্রোতে ভেঙেছে ভূঞাপুর-তারাকান্দি বাঁধ এর অজুনা ইউনিয়নের তারাই অংশে ১০০ ফুট ও ভূঞাপুর পৌরসভার অংশে ১০০ ফুট। যা বর্তমানে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মেরামত করা হচ্ছে। বন্যা কবলিত গ্রামগুলোতে মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় কাজ করছে ৩৯টি মেডিকেল টিম।


এছাড়াও জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী বন্যায় ৬ হাজার ৬৪৯ হেক্টর ফসলি জমি এবং সবজি পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪০২০ হেক্টর বোনা আমন জমি, ৩০৫ হেক্টর রোপা আমন (বীজতলা), ১৩৫ হেক্টর রোপা আমন (আবাদ), ১২৮৩ হেক্টর আউশ, ৬৩৯ হেক্টর বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ২৬৭ হেক্টর জমির পাট পানির নিচে রয়েছে।


পানি কমার বিষয়টি নিশ্চিত করে টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞান শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, সোমবার সকালে যমুনা নদীর পানি কমলেও বিপদসীমার ৫৪ সে.মি, ধলেশ্বরী নদীর দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ব্রিজের এখানে বিপদ সীমার ১৩২ সে.মি. এবং ঝিনাই নদীর কালিহাতী উপজেলার যোকারচর এলাকায় বিপদ সীমার ৫৭ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বাকি দুটি নদী পুংলী ও বংশাই নদী বিপদসীমার নিচে রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নদীগুলোতে আরো পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।


বিবার্তা্/মোল্লা তোফাজ্জল/জাই


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com