১০ বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে ৭৮ শতাংশ: দীপু মনি
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৯, ১৬:০৬
১০ বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে ৭৮ শতাংশ: দীপু মনি
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ফলে গত ১০ বছরে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।


তিনি বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির বর্তমান এই ধারা অব্যাহত রাখাই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য ইলিশের মজুদ নিরূপণ ও সর্বোচ্চ সহনশীল আহরণ মাত্রা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আরো নিবিড় গবেষণা পরিচালনা করতে হবে।


শনিবার চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমিতে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে ‘ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে অভয়াশ্রমের প্রভাব, মজুদ নিরূপণ ও জাটকা সংরক্ষণে গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।


জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।


শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ইলিশসহ মৎস্য খাতের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। ইলিশ বিষয়ে নিবিড় গবেষণা অব্যাহত রাখার জন্য ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছর হতে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওতায় ইলিশ গবেষণা জোরদারকরণ শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।


কর্মশালায় প্রধান বক্তা ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধি নির্ভর করে এর প্রজনন সফলতা, জাটকা মাছ রক্ষা এবং মাছ আহরণের পরিমাণের উপর। ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির মূলে রয়েছে জাটকা সুরক্ষা।


তিনি বলেন, ইনস্টিটিউটের গবেষণালব্ধ ফলাফলের উপর ভিত্তি করে সরকার বিভিন্ন নদ-নদীর জাটকা প্রধান অঞ্চলে ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে। একেকটি অভয়াশ্রম ইলিশ উৎপাদনের সূতিকাগার হিসেবে কাজ করছে।


তিনি বলেন, ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুমে আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার চারদিন আগে, পূর্ণিমার দিন এবং পূর্ণিমার ১৭ দিন পরে অর্থাৎ মোট ২২ দিন সারা দেশের সাগর, নদ-নদীতে প্রজননক্ষম ইলিশ ধরা, পরিবহন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে এসব অভয়াশ্রমগুলোতে আহরণ নিষিদ্ধকালীন সময়ে যথোপযুক্তভাবে জাটকা নিধন প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে ইলিশ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ১৭ হাজার মে.টনে উন্নীত হয়েছে।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মৎস্য অধিদফতর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে জাটকা সমৃদ্ধ ১৭টি জেলার ৮৫টি উপজেলায় জাটকা আহরণে বিরত ২ লাখ ৩৮ হাজারেরও অধিক সুফলভোগী জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ৪ মাসের জন্য মোট ৩৮ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা প্রদান করছে। যা অতীতের কোন সরকার করেনি।


তিনি আরো বলেন, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ভিজিএফ প্রদানের ফলে তাদের অন্নের সংস্থান সুনিশ্চিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকছে।


জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের এবারের শ্লোগান হচ্ছে- ‘কোনো জাল ফেলবো না, জাটকা ইলিশ ধরবো না’।


বিএফআরআই মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রইছউল আলম মন্ডল।


মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মোহাম্মদ রাশেদুল হক, জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান, নৌ পুলিশ সুপার জমসের আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com