নতুন ইতিহাস গড়লো নাসা
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২০, ১৪:৪১
নতুন ইতিহাস গড়লো নাসা
প্রিন্ট অ-অ+

ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়া আর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার বাধা পেরিয়ে অবশেষে সফলভাবে উড্ডয়ন করল বিশ্বের প্রথম মনুষ্যবাহী বেসরকারি মহাকাশযান।


আর এর মাধ্যমে মহাকাশ অভিযানে নতুন ইতিহাস গড়লো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। আর ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো প্রথমবারের মতো বেসরকারি মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। কেননা অ্যাপোলো মিশনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশন এটি।


এই প্রথম কোনো বেসরকারি বাণিজ্যিক মহাকাশযান স্পেস এক্স-এ চেপে মহাকাশ অভিযাত্রায় পাড়ি জমালেন নাসার দুই নভোচারী। তারা হলেন- ডগলাস হারলি এবং রবার্ট বেনকেন।


ফ্যালকন-৯ রকেটে চেপে গ্রিনিচমান সময় ১৯টা ২২ মিনিটে শুরু হয় কক্ষপথের এই ঐতিহাসিক অভিযাত্রা। বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের ৩৯এ প্যাড থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাত্রা শুরু করেন তারা। গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগবে ১৯ ঘণ্টা।


২০১১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে প্রথম কোনো রকেট মহাকাশে পাঠানো হলো। এছাড়া স্পেসএক্স তাদের ১৮ বছরের ইতিহাসে নিজেদের তৈরি মনুষ্যবাহী রকেট উৎক্ষেপণ করলো। এটি পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ডকিং করবে।


এই যাত্রায় নভোচারী রবার্ট বেনকেন ও ডগলাস হার্লে কেবল একটি নতুন ক্যাপসুল সিস্টেমই ট্রিলিং করছে না, তারা নাসার জন্য একটি নতুন ব্যবসায়িক মডেলও শুরু করছেন। তাই আগামী দিনগুলোতে মাহাকাশে যেতে আর নিজস্ব যান ব্যবহার করতে হবে না নাসা-কে। তারা ভাড়া করতে পারবেন স্পেসএক্সের “ট্যাক্সি”।


এদিকে নিজের কোম্পানির যানে চেপে মহাকাশ যাত্রার এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত মাস্ক। উড্ডয়নের মাহেন্দ্রক্ষণে আবেগে উচ্ছ্বসিত হয়ে লাফিয়ে উঠেন তিনি।


উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, আমি মনে করি এটি এমন একটি উপলব্ধি যা মানুষের হৃদয় থেকে সঞ্চারিত হয়। যার মধ্যে অনুসন্ধানের চেতনা রয়েছে তিনি এই শক্তির নাগাল পাবেন। এবং এর মাধ্যমে অন্তর্নিহিত শক্তির বহিঃপ্রকাশ করলো যুক্তরাষ্ট্র।


তিনি আরো বলেন, অতীত নেতারা আমাদের মহাকাশচারীকে কক্ষপথে পাঠানোর জন্য আমেরিকা বিদেশী দেশগুলির করুণায় ফেলেছিলেন। এখন আর নয়, আজকে আমরা আবারও গর্বের সাথে আমেরিকান রকেটে আমেরিকান নভোচারীদের যাত্রা শুরু করেছি- বিশ্বের সেরা- এখন থেকেই আমেরিকান মাটিতে।


এর আগে, গত বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণ করার কথা ছিল রকেটটি। তবে বাজে আবহাওয়ার কারণে উড্ডয়নের মাত্র ১৬ মিনিট আগে এর যাত্রা স্থগিত করা হয়।


সেদিন রকেট উৎক্ষেপণ দেখতে ফ্লোরিডা হাজির হয়েছিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও তার স্ত্রী কারেন। যাত্রা পণ্ড হওয়ায় তখন নিরাশ হয়েই ফিরতে হয়েছিল তাদের।


শনিবারের মহাকাশযাত্রা দেখতে অবশ্য আবারও হাজির হয়েছিলেন ট্রাম্প ও পেন্স। এবার আর নিরাশ হতে হয়নি। স্বচক্ষে দেখেছেন ঐতিহাসিক রকেট উড্ডয়ন।


স্পেসএক্সের রকেটযাত্রার পর আনন্দে আত্মহারা ট্রাম্প বলেন, এই দৃশ্য ছিল খুবই দৃষ্টিনন্দন। আশা করি সবাই তা উপভোগ করেছেন।


অবশ্য এদিনও বেশ ঝুঁকির মুখে ছিল ফ্যালকন ৯-এর মহাকাশযাত্রা। আকাশে ঘন মেঘ আর বজ্রপাতের আশঙ্কার কারণে ৫০ শতাংশ সম্ভবনা ছিল এর উড্ডয়ন বাতিল হয়ে যাওয়ার। তবে যাত্রার ৪৫ মিনিট আগেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় আর অপেক্ষা করতে হয়নি।


নাসার প্রশাসক জিম ব্রিডেনস্টাইন বলেন, অবতরণের আগে আমাদের যা প্রয়োজন তা হচ্ছে, নভোচারীদের বিশ্রাম। একবার তারা আইএসএসের সীমায় পৌঁছালে নিজেরাই মহাকাশযানটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অটোমেটিক নয়, তারা নিজেরাই এটি করবেন। কারণ তারা টেস্ট পাইলট। যানটি বিজ্ঞাপনে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে পরিচালিত হয় কি না তা পরীক্ষা করবেন পাইলটরা।


স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগনে প্রপেলেন্ট হিসেবে রয়েছে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯, যেটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য। এ কারণেই অদূর ভবিষ্যতে মহাকাশ ভ্রমণের খরচ অনেক কমে যাবে এবং ব্যক্তিগত ভ্রমণের দ্বার উন্মুক্ত বলে আশা করা হচ্ছে।



স্পেসএক্সের রকেটে নিজস্ব মহাকাশচারীকে মহাকাশে পাঠানো নাসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী।


জানা গেছে, ক্রু ড্রাগন মহাকাশযান তৈরি ও পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের জন্য স্পেসএক্সকে নাসা ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি এককালীন অর্থ দিয়েছে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান প্লেনেটারি সোসাইটি বলছে, এটি বেশ বড় অংকের টাকা হলেও নাসার আগের মহাকাশ কর্মসূচির তুলনায় সাশ্রয়ীই বলতে হবে।


গত কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মানব আরোহীকে পৌঁছে দিতে একমাত্র সক্ষম রকেট ছিল রাশিয়ার সয়ুজ।


সয়ুজের আসনপ্রতি নাসাকে খরচ করতে হতো সর্বোচ্চ প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত দশকজুড়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে লোক পাঠাতে নাসাকে প্রতি আসনের পেছনে গড়ে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার খরচ করতে হয়েছে। নাসার মহাপরিদর্শকের দফতরের ২০১৯ সালের নথিতে এমন তথ্যই রয়েছে।


একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন রকেটে নাসাকে আসনপ্রতি খরচ করতে হবে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অবশ্য এটি চুক্তির তথ্য। আসনপ্রতি প্রকৃত খরচ কতো তা স্পষ্ট নয়।


বিবার্তা/গমেজ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com