বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধীতা, প্রতিবাদে গৌরব ’৭১ এর মহাসমাবেশ
বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে কোনো ছাড় নয়
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৪৭
বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে কোনো ছাড় নয়
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ও বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা উচ্ছেদের হুমকির প্রতিবাদে “মহাসমাবেশ” করেছে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গৌরব ’৭১।


শনিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর শ্যামপুরের ধোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিলেন শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএসএ ( বাংলাদেশ শাখা)।


মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এম.পি, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক। উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, শহীদ সন্তান নুজহাত চৌধুরী শম্পা, শমি কায়সার, ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইবুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল রোজারিও, আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু।


গৌরব ৭১ এর সভাপতি এসএম মনিরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গৌরব ৭১ এর সহ সভাপতি হাবিবুর রহমান রোমেল, শেখ রাসেল ( ইউএস ইঙ্ক) এর রবিউল ইসলাম রূপম, আওয়ামী নেতা নেহেরীন মোস্তফা দিশি, ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, ঢাকা -৪ ও ৫ এর সকল ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ, ঢাকা ৪ এর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধীতা কখনো সহ্য করা হবে না। বঙ্গবন্ধুর দেশে তার ভাস্কর্য হবেই, এতে কোনে সন্দেহ নাই।


তিনি বলেন, এ উপমহাদেশে আলেমগারী কিছু ভণ্ড আছে। যারা একসময় ইংরেজি ভাষাকে হারাম বলে মুসলমানদের পিছিয়ে দিলেন। একাত্তরেও কিছু ভাড়াটিয়া আলেম ফতোয়া দিল পাকিস্তান ভাঙলে ইসলাম ভেঙে যাবে। আজকে আবার ফতোয়া দেয়া হলো, ভাস্কর্য নাজায়েয। আমি বাবুনগরীদের কাছে বিনয়ের সাথে প্রশ্ন রাখতে রাখতে চাই, আপনারা আগের ফতোয়াবাজধারীদের মতো। আমার ধারণা আপনারা তাদেরই উত্তরসূরী। আপনারা ধর্মকে সামাজিক কাজের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে চান।ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রাম্ত করতে চান।


বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধিতাকারীদের হুশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমরা একাত্তরে অস্ত্র জমা দিয়েছি কিন্তু ট্রেনিং জমা দেয় নাই। আপনারা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলবেন আমরা কি আপনাদের চুমো দেবো? না বুঝে ভাস্কর্য নিয়ে বলে থাকলে ক্ষমা চান, আর যদি জেনেশুনে বলে থাকেন তাহলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকেন।


মন্ত্রী আরো বলেন, আরে ভাস্কর্য তো আপনাদের শানের পাকিস্তানেও আছে। অধিকাংশ মুসলিম দেশে ভাস্কর্য আছে। আমি হালাল-হারামের কথায় বাদই দিলাম। আমার প্রশ্ন, সব মুসলিম দেশে যদি ভাস্কর্য থেকে থাকে তাহলে বাংলাদেশে থাকতে দোষ কি?


আসল কথা হলো আপনারা বঙ্গবন্ধুকে সহ্য করতে পারেন নাই। কারণ বঙ্গবন্ধুর কারণে আপনাদের পাকিস্তান টিকে নাই।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক বলেন, এদেশে থাকতে হলে বঙ্গবন্ধুকে মেনে থাকতে হবে। তার ভাস্কর্য এদেশের মোড়ে মোড়ে হবে। এটা তোমাদের মেনে নিতে হবে।


মামুনুল হক ও ফয়জুল করিমকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা বলেছো বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিবা। কিন্তু সে কাজ করতে আসলে এদেশের মুক্তিকামী মানুষ তোমাদের বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিবে।


স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন, শকুনরা আবার জেগে উঠেছে। তারা আবার জাতীয় পতাকাকে আঘাত করতে চায়। আর বসে থাকার সময় নাই। এখনই প্রতিবাদের ঝড় বইয়ে দিতে হবে।


তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানে জাতীয় পতাকা। কাজেই বঙ্গবন্ধুর অবমাননা সহ্য করা হবে না।


তিনি আরো বলেন, মামুনুল হককে সারাদেশের কোথাও নামতে দেবো না। যেখানে পাবো সেখানে তাকে প্রতিহত করা হবে।


স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, একাত্তরের বিরোধিতাকারীরা, পঁচাত্তরের ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধীতা করছে। এ প্রেক্ষিতে গৌরব ৭১ প্রতিবাদী এই মহাসমাবেশ আয়োজন করেছে। আমরা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ এতে সংহতি প্রকাশ করছি। একইসাথে বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারীদের প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে তার ভাস্কর্য হবেই,হবে। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে একত্রিত হয়ে একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে প্রতিহত হবে।


ব্যরিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে আপোষ হবে না। বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু মানে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের পতাকা। ইসলাম, কুরআন মৌলবাদীদের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আমরা ও ইসলাম জানি,কুরআন আমরাও পড়ি। শরীয়তের প্রশ্ন তুলবেন না, শরীয়ত আমরাও জানি। যারা স্বপ্ন দেখছেন বঙ্গবন্ধুর দেশে ইসলামি শাসন কায়েম করবেন, তাদের আশায় গুড়েবালি। ধর্ম নিরপেক্ষতা পরিবর্তন সম্ভব না। বঙ্গবন্ধুর দেশে তার ভাস্কর্যে হাত দিলে হাত ভেঙে দেয়া হবে হুশিয়ার দেন তিনি।


অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম বলেন, ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে আজকে যারা বিরোধিতা করেছে তারা একাত্তরেও এদেশের বিরোধিতা করেছে। তারা কখনো এদেশকে মেনে নিতে পারেনি। কারো বিরোধিতায় কিচ্ছু হবে না। বঙ্গবন্ধুর দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হবেই, হবে ইনশাআল্লাহ। যারা বঙ্গবন্ধুকে করাক্ষ করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।


আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, যারা একাত্তরে বাংলাদেশ চায়নি, সেই জামায়াত-বিএনপি আজকেও এদেশকে নিয়ে চক্রান্ত করছে। পাকিস্তানর দোসররা এদেশকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধিতা করবে, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে। বাংলাদেশের মাটিতে কোন অপশক্তি থাকতে দেবো না।


হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে থেকে যারা পাকিস্তানি চিন্তা করেন, তারাই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধীতা করছেন। অসাম্প্রদায়িক এদেশে তাদের প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হবে।


জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এম.পি বলেন, আমি নাটোর থেকে এসেছি জাতির জনকের অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে। ধর্মের নামে ফতোয়া দিয়ে যারা এদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে হবে। দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। প্রতিটি জেলায় জেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের দাবি করেন তিনি।


ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম বলেন, এভাবে যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে আবার রুখে দাঁড়াতে সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। ভাস্কর্য যদি হারাম হতো তাহলে মুসলিম দেশগুলোতে কি ভাস্কর্য থাকতো? মৌলবাদীরা কি এসব দেখেন না। আন্দোলনে নামার জন্য মৌলবাদীরা ছুতো খুঁজছে।


গৌরব ৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীন বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধীতা করেছে গৌরব ৭১ তাদের রাজপথে জবাব দেবে।


বিবার্তা/রাসেল/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com