মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে হার্ডলাইনে বাংলাদেশ
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৬:৩৩
মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে হার্ডলাইনে বাংলাদেশ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অরক্ষিত সীমান্ত অথবা সমুদ্রপথে বাংলাদেশে ঢুকে তারা নাশকতা চালাতে পারে- এমন আশঙ্কায় মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলোর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ।


মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ২৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এ সীমান্ত দুগর্ম হওয়ার কারণে অনেক স্থান অরক্ষিত। সীমান্তসংলগ্ন বাংলাদেশ অংশে ১০৩৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।


মিয়ানমারের আরাকান আর্মি, আরাকান লিবারেশন পার্টির (এএলপি) মতো গ্রুপগুলো বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের কাছে অস্ত্র পাচার করে বলে অভিযোগ উঠেছে।


পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো কোনো সশস্ত্র গ্রুপের সদস্য ধরা পড়ার পর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, তারা মিয়ানমার ও ভারতের মিজোরামে আশ্রয় পেয়ে থাকেন।


মিয়ানমারের নতুন সরকারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কাজ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবেও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকার উদ্যোগী।


আরাকান আর্মি মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী হলেও তারা মুসলিম সংখ্যালঘু জাতি রোহিঙ্গাদের বিরোধী। তাদের নেতার ভাষ্য– তারা রোহিঙ্গাদের পক্ষাবলম্বন করে কোনো ফাঁদে পা দেবে না। তাই তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের অবস্থান কঠোর।


অন্যদিকে এএলপি মিয়ানমারের সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছে। এখন তাদের মাঠপর্যায়ের অস্ত্রধারীরা পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে অস্ত্র পাচারের চেষ্টা করছে। তাই তাদের প্রতিরোধ করতে মিয়ানমার সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টহল জোরদার করছে। পাহাড়ে বিজিবির তিন ব্যাটালিয়ন বাড়ানো হচ্ছে।


মিয়ানমার সীমান্ত খুবই অপরাধপ্রবণ। ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সীমান্তে টহল বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে এসব অপরাধ কমে আসবে বলে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন।


মিয়ানমারের দায়িত্বহীন আচরণে বাংলাদেশ খুবই অসন্তুষ্ট। সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্তে বেশ কিছু মাইন পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ বান্দরবান সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় মনিরুল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হন। গত জুলাই মাসে বান্দরবান সীমান্তে দুটি তাজা মাইন পাওয়ার পর তা ধ্বংস করা হয়।


এ ছাড়া ইয়াবা পাচারে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীরা বাধা দেয় না। এমনিতে রোহিঙ্গারা রাখাইন রাজ্যে ঢুকতে চাইলে তাদের গুলি করা হয়। কিন্তু ইয়াবা পাচারকারী রোহিঙ্গারা রাজধানী নেইপিদো পর্যন্ত চলে যায়।


মিয়ানমানের সঙ্গে আস্থা বাড়াতে বাণিজ্য বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। মিয়ানমার সীমান্তে একটি স্থলবন্দর স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ স্থলবন্দরটি হলে চোরাচালান কমবে।


মিয়ানমার থেকে বার্মিস কাপড়, পেঁয়াজ, ছোলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কিছু আমদানি হয়ে থাকে। চোরাচালান ছাড়া বৈধপথে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এগুলো আমদানিতে খরচ বেশি হয়।


স্থলবন্দর হলে মিয়ানমারের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য বাড়বে। এটি দুদেশের সম্পর্কে আস্থা বৃদ্ধি করবে, যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করবে।


বিবার্তা/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com