শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না: হানিফ
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১৮
শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না: হানিফ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে এ দেশে যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।


সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সমাপনী দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


হানিফ বলেন, শেখ হাসিনা শুধু এই উপমহাদেশে নয় গোটা পৃথিবীতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কণ্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের গরিব-দুঃখী মানুষের আশ্রয়স্থল। শুধু তাই নয় এ দেশের অর্থনীতির মুক্তি ও জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণের একটি নামও শেখ হাসিনা।


তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এক সাথে ১৬ জন স্বজনকে হারিয়েছিলেন। তিনি বিদেশে থেকে বাবা, মা, ভাই-বোন হারানোর খবর পেয়েছিলেন। আজকে যারা গণতন্ত্রের সবক দেন, সেইদিন গণতন্ত্র কোথায় ছিল ? একটি পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করার পর আইন করে বিচার করার পথও বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো।


তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় ক্ষমতা পালাবদলের সময় দু-একটা নিহতের ঘটনা ঘটে। কিন্তু পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যার নজির পৃথীবির ইতিহাসে বিরল। এটা ছিলো ৭১ সালের প্রতিশোধ। পরবর্তীতে ক্ষমতায় এসে খুনি জিয়াউর রহমান তার প্রমাণ দিয়েছিলো।



আওয়ামী লীগের এইনেতা আরো বলেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে আসতে দেয়নি জিয়া। কিন্তু ১৯৮১ সালে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে শেখ হাসিনাকে দেশে আসতে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এক পর্যায়ে স্বজন হারানো ব্যথা নিয়ে বাংলাদেশে আসলেন শেখ হাসিনা। সেই দিন তিনি বলেছিলেন, আমি এসেছি এদেশে আমার বাবা হত্যার বিচার চাইতে।


মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, কোনো বাধাই শেখ হাসিনাকে থামাতে পারেনি। তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করেছেন। বাকি খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। একইভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের অনেকেরই ফাঁসি হয়েছে। এখনো বিচার চলছে। বাকিদেরও বিচার হবে। শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন ততদিন এ দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না।


তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশটাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিলো। কিন্তু রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সেই অবস্থা থেকে দেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। করোনার মধ্যে শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুযোর্গ মোকাবেলা করেছেন।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস এমপি বলেন, আজ একটি ঐতিহাসিক মূহুর্তে আমরা সবাই এখানে উপস্থিত হয়েছি। আজ এক অপরাজেয় নেত্রীর শুভ জন্মদিন। তিনি ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। বাংলার বীর কন্যা। তার আজ ৭৪ তম জন্মদিন। আজকে এই দিনে চলনবিলের ৫০ লাখ মানুষের পক্ষ থেকে থাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।


তিনি বলেন, আজকে এই দিনে প্রধানমন্ত্রীর যে ছবিগুলো নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে ; সেগুলোতে জননেত্রী শেখ হাসিনার শিশুকাল থেকে এ পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ধাপের চিত্র ফুটে উঠেছে।


আব্দুল কুদ্দুস বলেন, তিনি বলেন, এই দেশের মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। মানুষ দুই ধরনের স্বপ্ন দেখে- একটি হচ্ছে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে, যে স্বপ্নের কোনো দাম নাই। আরেকটি হচ্ছে জেগে জেগে, যে স্বপ্নের অনেক দাম। বঙ্গবন্ধু আমাদের জন্য জেগে জেগেই স্বপ্ন দেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।


তিনি বলেন, শুধু তাই নয় ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন।


নাটোর-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ১৫ আগস্ট যদি ধানমন্ডির বাসায় শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা থাকতেন তাহলে তাদেরকেও শেখ রাসেলের ভাগ্য বরণ করতে হতো। হয়তো মহান সৃষ্টিকর্তার কোন উদ্দেশ্য ছিলো এজন্য তাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন।


তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমাদের ঘাড়ে দেশের বহুমাতৃক সংঘাত চাপিয়ে দেয়া হয়েছিলো এবং ধর্মান্ধতার বেড়াজালে আমাদের আবদ্ধ করা হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু কণ্যা সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিলেন।


আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমরা সকলেই জানি শেখ হাসিনার এই পথচলা মসৃণ ছিলো না। তার ওপর হামলা হয়েছে বারবার। থাকে আন্দোণন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে। তার ওপর সবচে ভয়াবহ হামলা হয়েছে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এবং চট্রগ্রাম লালদিঘির ময়দানে।


তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন নজির নেই যে, একজন জনপ্রতিনিধি জনগণের পাশে দাঁড়ানোয় থাকে গ্রেনেট হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সেই কাজটি করেছে খালেদা-নিজামীরা।


তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন খুনি জিয়া, মোস্তাক, খালেদা, এরশাদ, গোলাম আযমরা সেই বাংলাদেশকে জোর করে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিলো তাদের ২৯ বছরের শাসনামলে। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের যুবসমাজ, ছাত্রসমাজ ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে তাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দেননি।



একই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদা খানম বলেন, একজন সৎ ও দক্ষ মানুষের আজকের এই দিনে জন্ম হয়েছিল। সেই মানুষটি হলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে যেমন আমাদের দেশ স্বাধীন হতো না, তেমনি শেখ হাসিনার জন্ম না হলে আজকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই সোনার বাংলাদেশ আমরা পেতাম না।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, আমি অনেক গর্বিত। কারণ প্রধানমন্ত্রী আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। দেশে ফিরে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে যা যা করা দরকার তিনি সব করেছেন। এছাড়াও শিক্ষার বিষয়টিও তিনি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন। নারীর ক্ষমতায়নসহ ‌অনেক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত তার হাত ধরেই এসেছে।


প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, বহু গুনের অধিকারী বঙ্গবন্ধুর কন্যা। উনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি আমরা দেখতে পাই। বঙ্গবন্ধুর অনেক গুন উনার মধ্যে রয়েছে এবং সেভাবেই তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা থাকার কারণে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই দেশ এগিয়ে গেছে।


‘গৌরব ৭১’কে ধন্যবাদ জানিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘গৌরব ৭১’ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে যে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে, সেটা শুধু একটি প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই ছবিগুলো আরো শত বছর পরেও আর্কাইভ হিসেবে থাকবে। শুধু তাই নয়, সেই সময় ছবিগুলো বর্তমানকে তুলে ধরবে ।


ঢাকা অঞ্চলের কর কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, শেখ হাসিনা সম্পর্কে বেশি কিছু না বলে শুধু এটুকু বললেই হবে যে, উনার সুখ্যাতি আজকে দেশ ছেড়ে দেশের বাইরেও পৌঁছে গেছে। পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রনায়করা উনার দেশ পরিচালনার দক্ষতায় অভিভূত। আগামী বিশ্বের অর্থনীতিতে যে সকল দেশ নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম, এটা আমার কথা না, বিভিন্ন দেশি বিদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কথা। এই অগ্রগতি ধরে রাখতে শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই।



সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল মাহমুদ বাবলু বলেন, শেখ হাসিনা হচ্ছেন মানবতার নেত্রী। একজন প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কলে প্রতিবন্ধী কিশোরীর সাথে কথা বলে, গ্রামের অসহায় মানুষকে নিজের তত্ত্বাবধানে জমি ও বাড়ী নির্মাণ করে দেন। এটা শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব।


সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, দেশের কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষ দুর্নীতি করেন না। যারা চেয়ারে বসে চাটুকারিতা করেন তারাই দুর্নীতি করেন। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সকল দুর্নীতিবাজদের নিশ্চিহ্ন করার শপথ গ্রহণ করেছেন।


সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদ সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৯৮১ সালে নেত্রী যখন দেশে আসেন তখন তাকে বাসা ভাড়া পর্যন্ত দেয়া হয়নি, উনার ছেলে-মেয়েদের কোন স্কুলে ভর্তি নিতে চায়নি। সেই জায়গা থেকে আজকে তিনি ৪ বারের প্রধানমন্ত্রী। গভীরভাবে দেখলে এটা সমগ্র জাতির জন্য ঘুরে দাড়ানোর একটি অনুপ্রেরণা। আজকে তিনি যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সেটাই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা।


‘গৌরব’৭১ আয়োজিত ‘প্রজন্মের প্রার্থনা, শতায়ু হোক শেখ হাসিনা’ স্লোগানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এসএম মনিরুল ইসলাম মনি।


সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও রাতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


রাত সাড়ে এগারটায় বাংলাদেশ সরকারের ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ‘গৌরব ৭১’ এর যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে যাত্রা শুরু করবে এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি।


বিবার্তা/আদনান/আবদাল

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com