কেমন হবে ইমরান খানের ভারত নীতি
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৫৮
কেমন হবে ইমরান খানের ভারত নীতি
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

আগামী ১১ আগস্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন ইমরান খান। তার আগেই দিল্লির কূটনৈতিক মহলে কানাকানি চলছে, ইমরান খানের জোট সরকারের আমলে ভারত-পাকিস্তান নীতি কি নতুন মোড় নেবে? এর জবাবে একাংশ পরিবর্তনের সম্ভাননার কথা বললেও অন্যপক্ষ সেনাবাহিনীর সদিচ্ছার ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছে।


এ কথা সত্য যে, ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দল ২৫ জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তাই তাঁকে ছোট ছোট দল এনং নির্দলীয়দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জোট সরকার গড়তে হচ্ছে। শোনা যায়, এই জোটসঙ্গী বাছাইয়ের কাজেও সেনাবাহিনীর সবুজ সংকেতের প্রয়োজন হচ্ছে। আর প্রশ্নটা এখানেই।


পাকিস্তানের ইতিহাস বলে, দেশটিতে কোনো সরকারই সেনা কর্তৃপক্ষের ছত্রছায়ায় না-থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাইলে টিকতে পারে না। সেই ''ঐতিহ্যের'' সূত্র ধরে ইমরান খানের সরকারকেও সেনাবাহিনীর হাতের পুতুল হয়ে থাকতে হবে – এমনটাই ধারণা ভারতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের। তাই ইমরানের ভারত-নীতি কোনদিকে মোড় নিতে পারে, তা নিয়ে দিল্লির কূটনৈতিক অন্দর মহলে চলছে নানা জল্পনা।


ভারতের বিভিন্ন মিডিয়ার বেশিরভাগ বিশ্লেষক মনে করছেন, নতুন কিছু হবার নয়। ইমরানের জয়কে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাঁর নৈকট্যের জয় বলে মনে করছেন তাঁরা। এককথায়, নতুন বোতলে পুরানো মদের বেশি কিছু নয়। কাজেই পাকিস্তানের ভারত-নীতিতে তেমন কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না তাঁরা।


ইমরান খানের ইতিবাচক বার্তা


কেউ কেউ অবশ্য মনে করেন, ইমরান খানের প্রাক-নির্বাচনী এবং নির্বাচন-পরবর্তী ভাষণে ভারতের সঙ্গে একটা আপসের সুর ছিল। মনে হয় একটা ইতিবাচক বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি। বলেছিলেন কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে ভারত এক পা বাড়ালে তিনি দু'পা বাড়াতে রাজি। ভারতীয় নেতৃত্ব তৈরি থাকলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতেও তৈরি তিনি।


তবে নরমে গরমে ইমরান খান ভারতকে এটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, গত ৩০ বছর ধরে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং হচ্ছে। সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলেই আসামির কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে পাকিস্তানকে। এটার সুরাহা করতে পাক-ভারত নেতৃত্বের উচিত আলোচনার টেবিলে বসা, খোলাখুলি আলোচনা করা।


কিন্তু কথা হচ্ছে, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?


ইমরান খানকে মোদীর ইঙ্গিতবাহী শুভেচ্ছা বার্তা


ইমরান খানের প্রধানমন্ত্রী হবার জন্য জোট সরকার গঠন যখন পাকা হতে চলেছে, তখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইমরান খানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়ে ইসলামাবাদকে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছেন। এমনকি মোদী ফোনেও কথা বলেন ইমরানের সঙ্গে।


ইমরানের শাসনকালে পাক-ভারত সম্পর্ক কোনদিকে মোড় নিতে পারে এবং ইমরানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মোদীর উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ - সে বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা বোঝা যাচ্ছে যে, ইমরান খানের প্রধানমন্ত্রী হবার পেছনে পাক সেনা বাহিনীর প্রত্যক্ষ মদত আছে। পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী এবং আইএসআই দু'টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। ফলে এদের ভূমিকা কী হবে বা ভবিষ্যতে এরা কী ভূমিকা পালন করবে, তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে।''


উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেন, ইমরানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মোদীকে আমন্ত্রণ জানালে একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর যাওয়াই উচিত। এটা একটা সৌজন্যমূলক বিষয়। মোদী বলেছিলেন, পাকিস্তান যদি ভারতবিরোধী সন্ত্রাসে মদত দেয়া বন্ধ না করে, তাহলে ইসলামাবাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। এটাকে মোদীর পাকিস্তান-নীতির নমনীয়তা বলে দেখাটা ঠিক হবে না। সেটা মোদী বলেছিলেন রাষ্ট্রনীতির প্রেক্ষিতে। তাই বলে কি ভারতে পাকিস্তান হাইকমিশন নেই? কিংবা ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশন নেই? শুধু তাই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে আসছে ভারত। সেটা তো তুলে নেয়া হয়নি। পরিকাঠামো উন্নয়নেও ভারত কাজ করছে পাকিস্তানে। দু'দেশের সম্পর্কে চড়াই-উৎরাই চলে আসছে চিরকাল।


নতুন দিল্লির অবস্থান হলো, কাশ্মীরে বা ভারতের অন্যত্র ''পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাস'' বন্ধ না হলে কোনো আলোচনা নয়। নিয়ন্ত্রণরেখায় জঙ্গি অনুপ্রবেশ, ভারতীয় সেনা শিবিরে সশস্ত্র হামলা এবং শান্তি একসঙ্গে চলতে পারে না। ইমরানের ক্রিকেটমুখ ভারতে জনপ্রিয়। ইমরানের গুগলি বলের সুনাম আছে ভারতে। সেটা দু'দেশের সম্পর্ককে মধুর করতে পারবে কিনা সেটা সময়ই বলবে। সামরিক বাহিনীর মন জুগিয়ে চলতে হলে ভারত, আফগানিস্তান কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ইমরান সরকার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি নিলে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাঁর মধুচন্দ্রিমা টিকবে কিনা – সেই প্রশ্নটা রয়ে যায়। ভারত সম্পর্কে পাক সামরিক নেতৃত্বের একটা নেতিবাচক মানসিকতা বদ্ধমূল। অনেকের মতে, সেটাই কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপে সমর্থন দিয়ে আসছে। এর জন্য পাকিস্তানকে হয়ত একঘরে হয়ে থাকতে হতে পারে, যেটা ইমরানের পক্ষে হবে একটা বড় বাধা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাকিস্তান বিরোধিতায় পাকিস্তানের মনে আশঙ্কার উদ্রেক করেছে যে, ওয়াশিংটন পাকিস্তানকে সমরাস্ত্র জোগান কমিয়ে ভারতকে সরবরাহ করবে বেশি। এছাড়া আর্থিক দিক দিয়েও আন্তর্জাতিক মূদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মাধ্যমে ট্রাম্প পাকিস্তানের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।


সবদিক বিবেচনা করে ইমরান যদি ভারতকে শান্তির জলপাই শাখা দেখাতে চায়, তাহলে বুঝতে হবে এতে সামরিক বাহিনীর শিলমোহর আছে। তবে বিশ্লেষকরা প্রায় সবাই একমত যে, আগামী বছর ভারতের সাধারণ নির্বাচনের ফল কী হয়, তা না দেখা পর্যন্ত ইমরান সরকার অপেক্ষা করবে, বড় কোনো পদক্ষেপ নেবে না। সূত্র : ডয়চে ভেলে


বিবার্তা/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com