ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক: কোহেনকে অর্থ দেয় ইউক্রেন
প্রকাশ : ২৪ মে ২০১৮, ১০:১২
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক: কোহেনকে অর্থ দেয় ইউক্রেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কোর একটি বৈঠকের আয়োজন করে দিতে গোপনে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন চার লাখ ডলার নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


ওই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। গত বছরের জুনে হোয়াইট হাউসে ওই বৈঠকটি হয়। ওই লেনদেনের বিস্তারিত জানিয়েছে ইউক্রেনের এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।


গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, কোহেনকে অর্থ দেয়ার কারণ হলো ইউক্রেনে নিবন্ধিত লবিস্ট বা ওয়াশিংটনের ইউক্রেনের দূতাবাস থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে পোরোশেঙ্কোর একটি ছবি তোলা ছাড়া আর বেশি কিছু আশা করা যাচ্ছিল না। কিন্তু পোরোশেঙ্কো আরো বেশি কিছু চাচ্ছিলেন, যাকে একটি পুরাদস্তুর ‘বৈঠক’ বলে বর্ণনা করা যায়। তাই এই চিত্রপটে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী কোহেনের আগমন।


ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুসারে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট একটি পেছন দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তার একজন সাবেক সহকারীকে দায়িত্ব দেন, ওই সহকারী আবার একজন বিশ্বস্ত ইউক্রেনীয় এমপির সহায়তা চান।


ওই এমপি নিউইয়র্ক স্টেটের একটি ইহুদি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগান। এর মাধ্যমে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আইনজীবী কোহেনের কাছে পৌঁছে যান। ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করে দেয়ার জন্য কোহেনকে তখন চার লাখ ডলার দেয়া হয়। তবে এই লেনদেনের বিষয়ে ট্রাম্প জানতেন, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।


কিয়েভের দ্বিতীয় আরেকটি সূত্রও একই বিবরণ দিয়েছে। তবে এই সূত্রের দাবি, কোহেনকে ছয় লাখ ডলার দেয়া হয়েছিল।


মাইকেল কোহেন


এসব বক্তব্যের সমর্থনে কোহেনের আর্থিক হিসাবের কিছু তথ্য প্রমাণ বের করেছেন মাইকেল অ্যাভেনাত্তি নামে এক আইনজীবী। তিনি পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের পক্ষে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা লড়ছেন।


অ্যাভেনাত্তি বলেছেন, সন্দেহজনক লেনদেন হিসাবে কোহেনের ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগকে যে হিসাব দিয়েছে, সেখানে দেখা গেছে যে ইউক্রেনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি খাত থেকে তিনি অর্থ পেয়েছেন।


তবে কোহেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দফতর তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে স্থানীয় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারা একটি বিবৃতিতে বিষয়টিকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা, মানহানিকর আর সাজানো’ বলে বর্ণনা করেছে।


হোয়াইট হাউসের কর্মসূচি তালিকা থেকে দেখা যায়, গত জুনে যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পোরোশেঙ্কো ওয়াশিংটনে রওনা দেন, তখনো শিডিউলে তার জন্য কয়েক মিনিট সময় বরাদ্ধ ছিল। সে হিসেবে তার করমর্দন আর ছবি তোলার পাশাপাশি হালকা আলোচনার বাইরে কিছু করার সুযোগ ছিল না।


ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেন, এনিয়ে কিয়েভের কর্মকর্তারা খুবই ক্ষেপে গিয়েছিলেন। কারণ তারা কোহেনের পেছনে হাজার হাজার ডলার ঢালছেন, কিন্তু তার বদলে যথেষ্ট পাচ্ছেন না।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় কিছু ব্যাপারে ইউক্রেনের নাম আসায় ট্রাম্পের সঙ্গে পোরোশেঙ্কোর দেখা করারও দরকার ছিল। ২০১৬ সালের আগস্টে ইউইয়র্ক টাইমস একটি সংবাদ প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়, ট্রাম্পের প্রচার ব্যবস্থাপক পল ম্যানাফোর্ট ইউক্রেনে রাশিয়া পন্থীদের কাছ থেকে মিলিয়ন ডলার গ্রহণ করেছেন।


ইউক্রেনে একটি রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চালানোর সময় এই অর্থ গ্রহণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনা প্রকাশের পর ম্যানাফোর্ট পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।


অনেক সূত্রে মতে, পোরোশেঙ্কো ওই তথ্যটি ফাঁস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ তিনি ধারণা করেছিলেন, হিলারি ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন ট্রাম্প।


ফলে যেখানে রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে লড়াই চলছে ইউক্রেনের, এরকম সময়ে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো কোনো শত্রু অবশ্যই তৈরি করতে চায় না। এ কারণেই ওভাল অফিসে নিজে উপস্থিত হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করা এবং ব্যক্তিগতভাবে আলাপ করা এত দরকার ছিল ইউক্রেনের এই নেতার।


বিশেষ করে তিনি রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিনকে দেখাতে চেয়েছেন যে, মার্কিন নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ভালো বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকের পর পোরোশেঙ্কো কিয়েভে ফিরে যাওয়ার পর ম্যানাফোর্টের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করার ঘোষণা দেয় ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ। সূত্র: বিবিসি


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com