শিরোনাম
‘কোল্ড ড্রিঙ্ক’ খাওয়ার পর শরীরে যা হয়
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১১:০৩
‘কোল্ড ড্রিঙ্ক’ খাওয়ার পর শরীরে যা হয়
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সকল বয়সের মানুষের কাছেই কোল্ড ড্রিঙ্ক অত্যন্ত প্রিয়। শিশুদের মধ্যেও কোল্ড ড্রিঙ্ক খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু অত্যধিক কোল্ড ড্রিঙ্ক পান শরীরকে কি পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্থ করে, তা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা যায়, কোল্ড ড্রিঙ্ক মাত্র এক ঘণ্টায় শরীরকে বিষে ভরিয়ে তোলে। এর প্রভাব পড়ে হাড়ে। বিশেষ করে হাড়ের কার্যকারিতাকে নষ্ট করে তাকে ভঙ্গুর বানাতে এটি মারাত্মকভাবে দায়ী।

 

‘কোল্ড ড্রিঙ্ক’ পানের প্রথম ১০ মিনিট পর

কোল্ড ড্রিঙ্কে থাকে প্রচুর পরিমাণে সুগার বা শর্করা। এক কাপ কোল্ড ড্রিঙ্কে কম করেও ১০ চামচ শর্করা থাকে। এই পরিমাণ শর্করা একজন সুস্থ মানুষ গোটা দিনে খেয়ে থাকে। গবেষকদের দাবি, ‘কোল্ড ড্রিঙ্ক’ পানের ১০ মিনিটের মধ্যেই এই শর্করা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হাড়ের মধ্যে থাকা ফসফরাসের জীবনশক্তি কমে আসে। 

 

‘কোল্ড ডিঙ্ক’ পানের ২০ মিনিট পর

কোল্ড ড্রিঙ্ক শরীরের মধ্যে থাকা গ্লুকোজ এবং ইনসুলিনের মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাব পড়ে লিভারে। যার পরিণতি ‘ফ্যাটি লিভার’। মানে লিভারের উপর চর্বি জমতে থাকা।

 

‘কোল্ড ডিঙ্ক’ পানের ৪০ মিনিট পর

কোল্ড ড্রিঙ্কের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেনাইন থাকে। এটি পানের ৪০ মিনিটের মধ্যে শরীর এই ক্যাফেনাইনকে পুরোপুরি গ্রহণ করে ফেলে। এতে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। লিভার প্রচুর পরিমাণে শর্করা তৈরি করে; যা রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। এর প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে, যা অ্যাডোনোসাইন হরমোনের কার্যকারিতাকে বন্ধ করে দেয়। এর জেরে ক্লান্তি অনুভব করার ক্ষমতা কমে যায়।

 

‘কোল্ড ড্রিঙ্ক’ পানের ৪৫ মিনিট পর

কোল্ড ড্রিঙ্ক পানের ৪৫ মিনিটের মধ্যে শরীরে ‘ডোপামাইন’ হরমোন ক্ষরণের পরিমাণকে বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণে মেজাজ খিটমিটে হতে থাকে। ভালো কিছু অনুভব করার ক্ষমতা কমতে থাকে। বলতে গেলে মাদকের নেশায় শরীরে যেমন ক্ষতি হয়, ‘ডোপামাইন’ হরমোন বেশি ক্ষরণের ফলে তেমনি ক্ষতি হতে থাকে।

 

‘কোল্ড ড্রিঙ্ক’ পানের ৬০ মিনিট পর

পাচনতন্ত্রে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরিক অ্যাসিড, জিঙ্ক, ক্যালসিয়ামের উৎপাদন প্রয়োজনের থেকে বেশি হতে থাকে। কিন্তু এই অত্যাধিক পরিমাণে উৎপন্ন হওয়া যৌগগুলোকে রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে (যেমন- প্রস্রাব) বের হতে বাধা দেয়। কোল্ড ডিঙ্কের মধ্যে থাকা সুগার এবং কেমিক্যাল সুইটনার। শরীরে ঢোকা ক্যাফেনানইন কাজ শুরু করে। এর জেরে শরীরে উৎপাদিত ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ককে হাতিয়ার করে হাড়ের উপর আক্রমণ শানায় ক্যাফেনাইন।

 

এক ঘণ্টা কেটে গেলে

কোল্ড ডিঙ্কের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা অতিরিক্ত শর্করা একদম চূড়ান্ত কাজ শুরু করে। মনে হবে শরীরে প্রচুর অ্যানার্জি এসে গেছে এবং মনে হবে মেজাজ খুব ভালো হয়ে গেছে। কিন্তু এসময় কোল্ড ডিঙ্কের মধ্যে থাকা সোডা ও পানি একসঙ্গে বের হতে থাকে। এগুলোর প্রভাবে খাদ্যকণাগুলো কাজ করা থামিয়ে দেয়। অতিরিক্ত পরিমাণে সোডা ও পানি এভাবে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলতে থাকে। এর প্রভাবে হাড়ের মজ্জাগুলো দ্রুতবেগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।

 

বিবার্তা/নিশি

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanew[email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com