দায়িত্ব পালনের জন্য পারিবারিক শিক্ষাটা গুরুত্বপূর্ণ
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২০, ২৩:১৫
দায়িত্ব পালনের জন্য পারিবারিক শিক্ষাটা গুরুত্বপূর্ণ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

আজ ১০ জুলাই ২০২০ শুক্রবার। জুম্মার দিন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার কাছে খুব ভাল দিনে নিয়ে গেলেন( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি।


সারাজীবন দলকে ভালবেসে কাজ করে গেছেন সাহারা খাতুন। রাজনীতি করা মানুষ ঘরে বসে থাকতে পারেন নাই। তাই অসুস্থ শরীরেও যতটুকু পেরেছেন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার আরো একজন বিশ্বস্ত সহকর্মীকে হারালেন। ক্ষতি কি শুধু একা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হয়েছে ? গোটা দেশ তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও শক্তিমান সন্তানদের হারাচ্ছে। আস্তে আস্তে রাজনীতির শক্ত দেওয়ালগুলি চলে যাচ্ছে। ব্যাকআপ দেয়াল তৈরি হচ্ছে কি না জানি না।


মরহুমা সাহারা খাতুন যখন মন্ত্রী ছিলেন তখনকার সময় অনেক মানুষ তার কাজের সমালোচনা করেছেন। সমালোচনা হতেই পারে। কাজের ভুল হতেই পারে। কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্ব নয়।


কিন্তু তার চেহারা নিয়ে, তার হাসি নিয়ে, মায়ের বয়সী একজন কর্মঠ ক্লান্ত মানুষের মঞ্চে হালকা ঘুম ঘুম ভাব আসায় একটু চোখ বন্ধ করা নিয়ে, এমনকি তার অবিবাহিত জীবন নিয়ে ট্রোল করা কখনই থেমে ছিল না। আজ তার মৃত্যুতেও হা হা রিয়েক্ট দেয়া থেমে নেই। আমার শুধু মনে হচ্ছে যে এই রিয়েক্ট দেয়া শুধুই আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতা করার জন্যই। একজন মানুষ হয়ে অন্য আর একজন মানুষের মৃত্যুতে হা হা রিয়েক্ট করা আপনারা কি অমর? কোনদিন মারা যাবেন না?


আমরা যে কোন কিছুতেই খুব সহজে জাজমেন্টাল হয়ে যাই। যে কোন কিছুকে যা ইচ্ছা বলে দেই। ট্যাগ দিয়ে দেই। যাকে তাকে নিয়ে যা তা সমালোচনা করা আজকাল ফ্যাশনে পরিণত করে ফেলেছি। এক্ষেত্রে একটি কথা বলতে হয়, লক্ষ্য করলে দেখা যায় এই সমালচনার ক্ষেত্রে মেয়েদের সমালোচনা হয় দ্বিগুণ। সমালোচনা এমনভাবে হয় যেখানে বার্তা দেয়া হয়, মেয়ে হয়ে কেউ যদি রাজনীতি করে বা ব্যবসা বাণিজ্য এমনকি চাকরি- তবে সে ভালো মেয়ে হতেই পারে না। এই তথাকথিত আধুনিক সমাজের আধুনিক কুল ডুডরা এখনো এসব মান্ধাতা আমলের ধ্যান ধারণা নিয়ে বসে থাকেন দেখে দুঃখ হয়।


রাষ্ট্র, সরকার, আওয়ামী লীগ এর সমালোচনা করতে পারেন, গালিও দিতে পারেন। কিন্তু আপনার হা হা রিয়েক্ট দেয়া বা আপনার পরিচিত কারো হা হা রিয়েক্ট দেয়া দেখেও চুপ থাকা বলে দেয় আপনার সামাজিক এবং পারিবারিক শিক্ষা কতটা অসম্পূর্ণ। আপনি একজন ব্যর্থ মানুষ। আপনার পরিবার আপনাকে শুধু জন্মই দিয়েছে কিন্তু মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেনি।


আপনি রাষ্ট্রের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করেন। সরকারের কাছে আশা করেন কিন্তু আপনি নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে দেখেন আপনি নিজে কি দিলেন রাষ্ট্রকে, আপনার সমাজকে। আপনি আমি আমরা মিলেই তো রাষ্ট্র।


আপনি আয়মান সাদিক, সাকিব বিন রাশিদ এদের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু যখন দেখেন সাকিব বিন রাশিদই তার পোস্টে লিখে রেখেছে '১৫ই আগস্ট কেক খেতে বা আতশবাজি ফোটাতে প্রব্লেম কি!' তখন আপনারা চুপ থাকেন। আর এই আয়মান সাদিক বা সাকিব রাশিদরা কিন্তু প্রতিক্রিয়া গোষ্ঠীর রুশানলে পড়লে আওয়ামী লীগের লোকজনের কাছেই ছুটে যায়। তারাই তার পক্ষে কলম ধরে।


গতকাল প্রধানমন্ত্রী যখন বলেছেন, ‘চোর ধরতে গিয়ে আমরাই চোর হয়ে যাচ্ছি’ সেটা নিয়েও আপনাদের অনেক কথা। আচ্ছা বলেন তো যদি বিএনপি-জামায়াত সরকার থাকতো আপনারা কি পারতেন এমন করে লিখতে, সরকারের প্রতিটা কাজের প্রতিটা বক্তব্যের এমন করে সমালোচনা করতে? মোটিভেশনাল বক্তব্যের নামে যা খুশি বলতে? আপনারা খুব লাকি যে জ্ঞান হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার দেখছেন। আমাদের মতো বিএনপি জামায়াতের অন্ধকার সময়টা আপনাদের দেখা লাগেনি। সেসময় এমনকি কান্নাও করতে হতো লুকিয়ে, নিজের বাসায় না, নিজের বাসায় থাকতে পারার মতো ভাগ্যবান সমালোচক তখন কেউই ছিল না। হয়তো সেই সময়ে আপনাদের জন্মই হয়নি, অথবা সুখে থেকে সব ভুলে গেছেন।


সরকারে সাপোর্টার হয়েও সরকারের সমালোচনা, দলের সমালোচনা আমরাও করি। ভুলগুলি আমরাও বলি, চেষ্টা করি সরকারের উপর মহলে সেসব পৌঁছে দিতে। শুধু সমালোচনা করি না, সমাধানের চেষ্টাও করি আমরা।


করোনার এই মহামারিতে যা চলছে দেশে, এসময়ে ঐক্যবদ্ধ না হয়ে ভুলগুলির জন্য যার যা খুশি বকেই যাচ্ছেন। কিন্তু সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য কতটা চেষ্টা করছেন? শুধু ভুল ধরে দায়িত্ব শেষ করে দিতে চাচ্ছেন! এই সময়ে হাজারো ভুল হবে আর সেই ভুল গুলো যত দ্রুত শুধরে নেয়া যাবে তত দ্রুতই আবার আমার বাংলাদেশ তার আগের রূপে ফিরে পাবে। নিজেকে ফিরে পাওয়ার যুদ্ধে আপনারা শুধুই সমালোচনা করবেন নাকি ভুল ধরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি পাশে থেকে ভুলগুলো শুধরাতে সাহায্য করবেন সেটা আপনার বিবেচনা।


সবশেষে শুধু একটা কথা বলবো, রাষ্ট্র, সমাজ বা পরিবারের প্রতিও আপনার দায়িত্ব আছে আর সেই দায়িত্ব বুঝার জন্য, সেই দায়িত্ব পালন করার জন্য আপনার পারিবারিক শিক্ষাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।


(সিলভিয়া পারভীন লেনির ফেসবুক থেকে)


বিবার্তা/আবদাল


সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com