
উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে আগামী ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন-২০২৬। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা। বিশেষ করে সভাপতি পদে চার প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গোয়াইনঘাটের সাংবাদিক মহলে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এশিয়ান টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি মো. আবুল হোসেন, দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক সিলেটের ডাক-এর প্রতিনিধি মো. মনজুর আহমদ, সিলেটভিউ২৪ ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক এম এ মতিন এবং দুর্গেশ চন্দ্র সরকার বাপ্পি (যুগভেরী)। যাচাই-বাছাই শেষে এই চারজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চার প্রার্থীর মধ্যে মনজুর আহমদ ও এম এ মতিন এর আগে বিভিন্ন মেয়াদে গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে আবুল হোসেন ও দুর্গেশ চন্দ্র সরকার বাপ্পি এবার প্রথমবারের মতো সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের সমীকরণে এবারের সভাপতি নির্বাচন পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
প্রচারণায় বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন এশিয়ান টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি মো. আবুল হোসেন। প্রথমবার সভাপতি পদে প্রার্থী হয়ে তিনি ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, মতবিনিময় ও সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে গোয়াইনঘাট ইলেকট্রনিক ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।
অন্যদিকে সাবেক সভাপতি মনজুর আহমদ দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে মাঠে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক সিলেটের ডাক-এর গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাবেক সভাপতি এম এ মতিনও সভাপতি পদে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপর প্রার্থী দুর্গেশ চন্দ্র সরকার বাপ্পীও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে নিজের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। তিনি যুগভেরীর সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক হিসেবে গোয়াইনঘাটে সক্রিয় রয়েছেন।
এদিকে সভাপতি পদে যখন চার প্রার্থীর জমজমাট লড়াই, তখন অন্যান্য কয়েকটি পদে ভোটের আগেই প্রার্থীদের অবস্থান অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে। সহ-সভাপতি পদে বেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. করিম মাহমুদ লিমন, কোষাধ্যক্ষ পদে আজিজুর রহমান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে সাইদুল ইসলাম, পাঠাগার ও দপ্তর সম্পাদক পদে রিয়াজুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে রফিক সরকার এবং নির্বাহী সদস্য-১ পদে বিলাল উদ্দিন একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। ফলে এসব পদে তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন।
এর মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে মো. করিম মাহমুদ লিমন টানা দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব পাওয়ার পথে রয়েছেন। ২০২৪-২০২৬ মেয়াদেও তিনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এবারের নির্বাচনে তাঁর বিপরীতে কোনো প্রার্থী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন।
এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং নির্বাহী সদস্য-২ ও ৩ পদে কোনো প্রার্থী নেই। আর সহ-সম্পাদক পদে মিনহাজ মির্জা ও কাওসার আহমেদ রায়হাতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের প্রচারণায় বাড়ছে প্রাণচাঞ্চল্য। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, মতবিনিময় ও সমর্থন চাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের এবারের নির্বাচন সাংবাদিকদের জন্য যেমন একটি গণতান্ত্রিক চর্চার উপলক্ষ, তেমনি এটি পরিণত হয়েছে উৎসবমুখর ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ এক মিলনমেলায়।
বিশেষ করে সভাপতি পদে চার প্রার্থীর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারেন—এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। অভিজ্ঞ সাবেক সভাপতি নাকি নতুন নেতৃত্বের প্রার্থী—শেষ হাসি কে হাসবেন, সেই উত্তর মিলবে আগামী ৯ অক্টোবরের ভোটে।
গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের এবারের নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব নির্ধারণের ভোট নয়; বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, পেশাগত মর্যাদা, সাংবাদিকদের অধিকার ও সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশাও জড়িয়ে আছে এ নির্বাচনের সঙ্গে। তাই ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রতিযোগিতার উত্তাপ।
বিবার্তা/জাহিদুল/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]