
হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলা। এই জেলা নানান অজুহাতে শিক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও সুনামগঞ্জেই দেশের সব চেয়ে বেশি ১২০ প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বাস ভবনের সামনে অবস্থা নেয় বঞ্চিতরা।
এসময় তারা এনএসআই, ডিএসবি পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে শুধু সুনামগঞ্জেই ১২০ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান গ্রহণ করে অবিলম্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত চালিয়ে তাদের দ্রত নিয়োগপত্র প্রদানের দাবি জানান বঞ্চিত প্রার্থীরা।
সচেতন মহল বলছেন, বঞ্চিত অনেকের বয়স নেই। এখন তারা যদি বাতিল হয় তাদের ভবিষ্য জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। শুধু তাই নয় শিক্ষা ক্ষেত্রে অনুন্নত পরিস্থিতি আর ভয়াবহ শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে এই জেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই ভয়াবহ শিক্ষক সংকটের মুহূর্তে পুলিশ ভেরিফিকেশনের অজুহাতে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত মেধা তালিকার প্রার্থীদের বাদ দেওয়াকে অত্যন্ত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।
আমার কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই, থানাতেও কোনো মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেই জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলার হাওর পাড়ের বাসিন্দা তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের আমিরুল হাসান।
তিনি জানান, গণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন ২০২১ সালে এমসি কলেজ থেকে।চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর বিগত ৮ মাস ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিকভাবে ভুগেছি। সর্বশেষ চূড়ান্ত নিয়োগপত্রে নিজের নাম না দেখে যেন আকাশে কালো মেঘ নেমে এসেছে।
মা-বাবাহীন মহসিন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে টিউশনি করে অর্থনীতিতে অনার্স শেষ করেছেন একই গ্রামের বাসিন্দা মহসিন মিয়া। আর টিউশনির টাকার পরিবার চালান। তিনি জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার নাম বাদ পড়েছে শুনে তিনি জানান আমার মুখের খাবার জোড় করে কেরে নেয়া হয়েছে।
মেধা তালিকায় ৯ম স্থানে ছিলেন জেলার শান্তিগঞ্জের ফতেহপুর গ্রামের মেধা তালিকায় থাকা সামন্ত কুমার দাস। তিনি জানান,আমি শত ভাগ নিশ্চিত ছিলাম আর যোগদানের সকল পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে নিয়োগ তালিকায় আমার নাম অনুপস্থিত। আমি কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত নই এবং আমার নামে কোনো মামলা-হামলাও নেই। এখন আমি পুরোপুরি ভাষাহীন কি ভাবে এমন হলো।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানিয়েছেন, জেলায় মোট ৬৩৫ জন শিক্ষক পদের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আপাতত ১২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ১-২ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমরাও চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায়সংগত অধিকারের পক্ষে যতটুকু আইনি সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করবো জানিয়ে সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান বলেন, সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে অনেকে বাদ পড়ার বিষয়টি আমরা অবগত হয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়েছে, বিভাগীয় পর্যায়ে কথা বলছেন। আশা করি দ্রুত এর একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে।
বিবার্তা/এসএম
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]