
লালমনিরহাটে গত দুই মাসে পাঁচটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আদিতমারী উপজেলায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি হত্যা কাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক বাণিজ্য, সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ নানা ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। গত দুই মাসে সংঘটিত ৫টি আলোচিত হত্যাকাণ্ড জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টাখেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় নন্দিনী রানী (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দীলাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন পুলিশ, এ ঘটনায় পুলিশ সহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
এদিকে নিখোঁজের ঘটনায় আগের দিন জিডি গ্রহণ না করার অভিযোগে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে ইতোমধ্যে ক্লোজ করা হয়েছে। এর আগে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালী বারঘড়ী গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কুপিয়ে আহত হওয়া উজ্জ্বল মিয়া (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। গত ২ জুন সংঘটিত হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ৯ জুন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
৯ জুন আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিয়াকত আলী লাদেন (১৫) নামে এক মাদরাসাছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয়রা টানা দুই দিন মহাসড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
আরও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে গত ২৩ মে। ঈদ উদযাপন করতে বাবার বাড়িতে আসা এক বিধবা নারী স্বপ্না বেগমের (৫০) বিবস্ত্র লাশ আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণটারী গ্রাম থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এর আগে গত ১০ এপ্রিল লালমনিরহাট সদর উপজেলার তেলিপাড়া এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সুমন (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ২০ এপ্রিল এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
সব মিলিয়ে গত দুই মাসে জেলার ৫টি পৃথক হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। এর মধ্যে চারটি ঘটনাই ঘটেছে আদিতমারী উপজেলায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক, সুদের লেনদেন ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মতো বিভিন্ন সামাজিক সমস্যাকে কেন্দ্র করেই এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বেড়েই চলেছে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ বলেন, এসব ঘটনা মূলত জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
বিবার্তা/হাসানুজ্জামান/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]