
আকাশে কখনো প্রখর রোদ আবার কখনো কালো মেঘ। মাঝেমধ্যে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, কখনো বজ্রপাতের শঙ্কা। চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া আর সীমান্তরক্ষীদের কড়া নজরদারি। এরই মধ্যে খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে বসে আছে ১০ জন মানুষ। তাদের মধ্যে আছে তিনটি শিশু, দুইজন নারী এবং পাঁচজন পুরুষ। না পারছে সামনে এগোতে, না পারছে পেছনে ফিরতে। পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তের জিরো লাইনে এখন এভাবেই কাটছে তাদের দিন-রাত। বিজিবি-বিএসএফ এর কয়েক দফা বৈঠকেও মেলেনি কোন সমাধান।
শুক্রবার (৬ জুন) ভোরে সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে । বাংলাদেশের নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বাধা দিলে তারা জিরো লাইনের ভারতীয় অংশে অবস্থান নেয়।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। স্থানীয়রা দূর থেকে তাকিয়ে দেখছেন শিশুদের অসহায় মুখ। কারও হাতে নেই পর্যাপ্ত খাবার, নেই নিরাপদ আশ্রয়। সীমান্তের কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশুরা।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু মানবিক দিকটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছেন, যে দেশের নাগরিকই হোক না কেন, শিশু ও নারীদের এভাবে খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন রাখা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না।
সীমান্ত এলাকার এক বাসিন্দারা বলেন, “রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিষয় পরে দেখা যাবে। আগে মানুষগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। বিশেষ করে শিশুদের কষ্ট দেখলে খারাপ লাগে।”
এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করছেন। মাঝে মাঝে দেখা দিচ্ছে বিজিবি- বিএসএফ ও সীমান্তবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা।
নীলফামারী ব্যাটালিয়ন (৫৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে, তবে তা ফলপ্রসূ হয়নি। তিনি বলেন, “তারা যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকে, তাহলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো হোক। নিয়ম মেনে এলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব। কিন্তু অবৈধভাবে কাঁটাতারের বেড়া পার করে পুশইন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
সীমান্তে এমন ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রতিবারই রাষ্ট্রীয় অবস্থান ও কূটনৈতিক আলোচনার আড়ালে মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয় সাধারণ মানুষ। বড়বাড়ি সীমান্তের জিরো লাইনে আটকে থাকা ১০ জন মানুষের ঘটনাও সেই বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ।
এখন প্রশ্ন একটাই—কবে শেষ হবে তাদের অপেক্ষা? কবে মিলবে নিরাপদ আশ্রয় আর পরিচয়ের নিশ্চয়তা? সীমান্তের কাঁটাতারের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে সেই উত্তরই খুঁজছেন স্থানীয়রা।
বিবার্তা/বিপ্লব/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]