মোংলা বন্দরের নতুন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদের যোগদান
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১৮:৫২
মোংলা বন্দরের নতুন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদের যোগদান
মোংলা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। তিনি পূর্বের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।


রবিবার (৭ জুন) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকারের থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মোংলা বন্দরের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।


বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ইতিপূর্বে তিনি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল, প্রশাসনিক ও কৌশলগত পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষ নেতৃত্ব, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নৌ-খাতে অভিজ্ঞতার কারণে তিনি সংশ্লিষ্ট মহলে পরিচিত মুখ।


মোংলা বন্দরের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর সকল সদস্য, সকল বিভাগীয় প্রধান, ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাগণ, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যবৃন্দ এবং সিবিএ-র এডহক কমিটির সদস্যবৃন্দকে নিয়ে মবক'র সভাকক্ষে মতবিনিময় সভা করেন।


সভায় বন্দরের চলমান প্রকল্প, অসমাপ্ত প্রকল্প ও কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যোগদানকৃত চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। নবযোগদানকৃত চেয়ারম্যান সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা পূর্বক বন্দরের উন্নয়নের স্বার্থে গৃহীতব্য ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেন। তিনি বন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ দায়িত্ব ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে দলগতভাবে কাজ করার বিষয়ে উপস্থিত সকলকে নির্দেশনা প্রদান করেন।


তিনি জানান যে, প্রশাসনিক কাজের জটিলতা হ্রাস করা সম্ভব হলে বন্দরের অন্যান্য অপারেশনাল কার্যক্রম সম্পাদন করা সহজ হবে। এছাড়াও বন্দরের আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জন্য সকলকে নির্দেশনা প্রদান করেন। সর্বোপরি বন্দরের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে বন্দর ব্যবহারকারীদের সাথে অতিদ্রুত আলোচনা সভা করার বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন।


রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নির্বাহী শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে ডিস্টিংশনসহ স্নাতক এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মিলিটারি স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ডিএসসিএন্ডএসসি মিরপুর, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, মিরপুর এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, নাইজেরিয়ার প্রাক্তন ছাত্র।


রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা তাঁর ৩০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে বিভিন্ন কমান্ড, প্রশিক্ষক এবং স্টাফ অফিসার হিসেবে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা যিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি ফ্রিগেট, যথা বানৌজা ওমর ফারুক এবং বানৌজা সমুদ্র জয়ের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বানৌজা দুর্জয়ের কমিশনিং ক্যাপ্টেন এবং বানৌজা ওমর ফারুকের ডিকমিশনিং ক্যাপ্টেন ছিলেন। রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা প্যাট্রোল ক্রাফট বানৌজা ফরিদ, তিস্তা, মেঘনা, এলপিসি বানৌজা দুর্জয়, ওপিভি বানৌজা এসআর আমিন এবং নৌঘাঁটি বানৌজা হাজী মহসিনের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


বাংলাদেশের সামুদ্রিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি মোংলা বন্দর। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর হিসেবে মোংলা বন্দর আজ শুধু একটি বন্দর নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বন্দরের আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজন দক্ষ, দূরদর্শী ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব।


বিশেষজ্ঞদের মতে, নৌপরিবহন ও সামুদ্রিক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা মোংলা বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি এনে দেবে। বর্তমানে মোংলা বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পদ্মা সেতু চালুর পর বন্দরের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।


বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, আমদানিকারক-রপ্তানিকারক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফার নেতৃত্বে মোংলা বন্দর আরও আধুনিক, গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বন্দরে পরিণত হবে। বিশেষ করে বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাহাজজট নিরসন, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণে তাঁর কার্যকর ভূমিকা থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদী।


বর্তমানে মোংলা বন্দর শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারত, নেপাল ও ভুটানের ট্রানজিট সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে এই বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সময়ের অন্যতম দাবি হয়ে উঠেছে।


সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ ও দূরদর্শী পরিকল্পনায় মোংলা বন্দর আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।


বিবার্তা/জাহিদ/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com