
পর্দার ‘আয়নাবাজি’ এবার বাস্তবে ঘটে গেল এবার নরসিংদী জেলা কারাগারে। টাকার বিনিময়ে অন্যের নামে আদালতে হাজিরা দিয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন হারুন মিয়া (৬২)। এক মাস ছয় দিন অন্যের হয়ে হাজত খাটেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। জালিয়াতি ধরা পড়ার পর আদালতকে ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগে নতুন মামলায় কারাফটক থেকেই তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়েছে। এই জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীতে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই সদর থানার পুলিশ হারুন মিয়াকে গ্রেফতার করে।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে , ২০২৪ সালে নরসিংদীর রায়পুরায় একটি মানব পাচার মামলা হয়। সেই মামলায় গত ১২ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিন আসামি—জামির উদ্দিন (৪৩), সেলিম মিয়া (৪৫) ও ফাতেমা (৪২)। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। তবে কিছুদিন পর কারাগার কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, সেলিম পরিচয়ে যে ব্যক্তি কারাগারে আছেন, তার আসল নাম হারুন মিয়া। তিনি রায়পুরা উপজেলার মাহমুদ নগর এলাকার সামছু মিয়ার ছেলে। অভিযোগ ওঠে, অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত আসামি সেলিম মিয়ার প্রক্সি (বদলি) হিসেবে আদালতে হাজিরা দিয়ে জেলে গিয়েছিলেন হারুন।
বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ধরা পড়ার ভয়ে গতকাল সোমবার আসল আসামি সেলিম মিয়া তড়িঘড়ি করে আদালতে হাজির হন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।
একই দিন নরসিংদীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আলী আহসান প্রক্সি হাজিরা দেওয়া হারুন মিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে অন্যের পরিচয়ে আদালতে হাজিরা দিয়ে জালিয়াতি ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করার নির্দেশ দেন বিচারক।
আদালতের নির্দেশের পরই জামিনে মুক্ত হওয়ার সময় কারাফটক থেকে হারুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর মামুন তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টাকার বিনিময়ে অন্যের সাজা খাটার এই ঘটনার ব্যাপারে নরসিংদীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার শেলী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর আসামির পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য আমরা আদালতের কাছে দাবি জানাই। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত করে হারুনের প্রকৃত পরিচয় বের করে।’
পিপি আরও বলেন, ‘একজনের পরিবর্তে আরেকজন সাজা ভোগ করবে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জালিয়াতি করে প্রক্সি হাজিরা দেওয়ার ঘটনায় হারুন মিয়ার বিচার হবে। এ ছাড়া এই জালিয়াতির সঙ্গে কোনো আইনজীবীর গাফিলতি বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।’
বিবার্তা/কামাল/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]