
উপকূলের ৭৩% মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। আধারযোগ্য পানি সরবরাহ করতে পারে না ৩ কোটি মানুষ। জলবায়ু বিপর্যয়ের কবল থেকে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠানে এমনটাই দাবি করেছেন বক্তারা।
শনিবার (২ মে) সকালে মোংলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন, ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরাম ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক।
স্বাগত বক্তব্যে মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়ের ফলে উপকূলের প্রধান দুর্যোগ হলো লবণাক্ততা। সুপেয় পানির সংকটে মোংলাসহ উপকূলের মানুষের দিশেহারা। সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে।
সংলাপে বক্তারা বলেন, উপকূলের ৭৩% মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। আধারযোগ্য পানি সরবরাহ করতে পারে না ৩ কোটি মানুষ। দেড় কোটি মানুষ ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি পানে বাধ্য থাকে। মোংলার ৬৫% মানুষের সুপেয় পানি সংগ্রহের কোন ব্যবস্থা নেই। বাকী ৩৫% মানুষকে বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য সরকারি এবং বেসরকারি ভাবে পানির ট্যাংকি বিতরণ করা হলেও তা দিয়ে ৬ মাসের পানি ধারন করা সম্ভব। সংলাপে সুপারিশ আকারে বক্তারা বলেন বাংলাদেশ পানি আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যয় করতে হবে। বাগেরহাট জেলা পরিষদের শতাধিক পুকুর বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষের ইজারা বাতিল করে খাবার পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার করতে হবে। পুকুর খনন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে গ্রামে পাইপ লাইনের মাধ্যমে খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে। মোংলা বন্দরের ৩টি পুকুর পৌরসভাকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিতে হবে যা দিয়ে সুপেয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব। এডিপি ও টিআর এর বরাদ্দ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রকল্প গ্রহন করতে হবে। আশু সমাধান হিসেবে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপের পানির সংকট নিরসনে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার জন্য ব্যাপক ভাবে ট্যাংকি বিতরণ করতে হবে।
নাগরিক সংলাপে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী। নাগরিক সংলাপ সঞ্চালনায় ছিলেন ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরাম মোংলার সভাপতি পরিবেশকর্মী মো. নূর আলম শেখ।
এ সময় সুপেয় পানির সংকট নিরসনের উপর মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল, উন্নয়নকর্মী তৃপ্তি সরদার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
নাগরিক সংলাপে অন্যান্যদের বক্তৃতা করেন, উপসচিব আলমগীর হুসাইন, মোংলা সার্কেল'র সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহীন হোসেন, মোংলা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আতিকুল ইসলাম, মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র পৌর বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু হানিফ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবীব হাসান প্রমূখ।
নাগরিক সংলাপে মুক্ত আলোচনায় মোংলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বিবার্তা/জাহিদ/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]