
রাজবাড়ী দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মার পানিতে ডুবে যাওয়া বাসটিতে থাকা যাত্রীদের বেশিরভাগই ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় তাদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে প্রিয়জনের মরদেহ নিতে এসে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনেই আহাজারি করতে থাকে স্বজনেরা।
এসময় কথা হয় ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাস থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীদের একজন মো. রাজীব সরদারের সাথে। তিনি জানান গোয়ালন্দের জামলতা এলাকা থেকে দুর্ঘটনা কবলিত বাসটিতে উঠেছিলেন তিনি। বসেছিলেন বাসের একেবারে পেছনের দিকের একটি আসনে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটির সব আসনেই যাত্রী ছিল বলে জানান রাজিব।
তিনি জানান, ফেরিতে উঠতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে জায়গা না পাওয়ায় পন্টুনের সামনেই পরবর্তী ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল কুমারখালি থেকে ঢাকাগামী বাসটি। জানালা দিয়ে পরের ফেরিটি ঘাটেও ভিড়তে দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু কি যে হলো, কিছুই বুঝি নাই। বাসটা হঠাৎ টান দিয়ে গিয়ে নদীতে পড়লো, আমার গায়ের ওপর আরও কয়েকজন, আমি অনেক চেষ্টা করেও সরাতে পারছিলাম না" বলেন রাজিব।
তিনি আরও বলেন, বাস পানিতে পড়ার পর জানালা ধরে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। বাসের ভেতরে নিচের দিক থেকে পানি ঢুকে যে স্রোত তৈরি হইছে তার সাথেই আমি ভেসে যাই। কিভাবে যে বের হইছি, উপরওয়ালা জানে।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত নারী, শিশুসহ ২৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে রাজবাড়ি জেলা প্রশাসন।নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে, মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার।সেই সাথে প্রত্যেক মরা দেহ দাফনের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে ২৫ হাজার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় নিহতদের বেশিরভাগেরই বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী এবং রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় শোকের আবহ নিহতদের পরিবারগুলোতে।বৃহস্পতিবার সকালেই নিহত অনেকের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন।
বিবার্তা/মিঠুন/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]