রামুতে ওয়ার্ল্ড ভিশনের আইডাব্লিউআর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
আবারও আলোচনায় প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১১:১৪
রামুতে ওয়ার্ল্ড ভিশনের আইডাব্লিউআর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
জাবেদুল আনোয়ার (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বাস্তবায়নাধীন আইডাব্লিউআর (IWR) প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমানকে ঘিরে আবারও নানা অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।


জাপান সরকারের অর্থায়নে হতদরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত এ প্রকল্পে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের আওতায় একজন মাঠকর্মীকে ইউনিয়ন সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাত্র ২০ দিনের মাথায় কোনো লিখিত কারণ ছাড়াই মৌখিকভাবে তার নিয়োগ বাতিল করে দেন প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান। এতে ভুক্তভোগী কর্মী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে জানা গেছে।


ভুক্তভোগীর দাবি, নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি ও শ্রমনীতির পরিপন্থী বলে তিনি অভিযোগ করেন।


স্থানীয় সূত্র জানায়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়গুলো নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।


এমনকি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের হেড অফিস থেকে তদন্ত টিম রামুতে এলেও রহস্যজনকভাবে তিনি বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বারবার ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে বলেও অনেকের ধারণা।


অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছামতো লোকজনকে নিয়োগ দিচ্ছেন এবং আবার নিজের সিদ্ধান্তেই সেই নিয়োগ বাতিল করছেন। এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে।


এদিকে একই প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার টমাস বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, একজন নারী কর্মীকে তার অনিয়মে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।


স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে সংস্থাটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের উপকারভোগীদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


অন্যদিকে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও তাদের পেছনে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কথাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চলের প্রধান প্রবীর কুমারের নামও বারবার এসব ঘটনায় “সেল্টারদাতা” হিসেবে আলোচনায় আসছে।


এ বিষয়ে প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান ও প্রজেক্ট অফিসার টমাস বিশ্বাসের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


এদিকে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলা প্রধান প্রবীর কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়।


স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি না হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে সংশ্লিষ্টদের অনীহা কেন?


স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান অনিয়ম ও দুর্নীতিকে যেন এখন নিয়মে পরিণত করেছেন। তাদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


বিবার্তা/জাবেদ/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com