সারাদেশ
চরে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন, দাম কমে হতাশ চাষিরা
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ১৯:১৩
চরে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন, দাম কমে হতাশ চাষিরা
হাসানুজ্জামান হাসান, লালমনিরহাট
প্রিন্ট অ-অ+

রংপুর অঞ্চলের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এ বছর বিপুল পরিমাণ জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কম রোগবালাইয়ের কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় চাষিরা আশানুরূপ লাভ করতে পারছেন না। উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক কৃষককে।


কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরাঞ্চলের বালুময় জমিতে শীতকালীন সবজি হিসেবে মিষ্টি কুমড়ার চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কম খরচে বেশি উৎপাদনের আশায় কৃষকরা প্রতি বছরই এ ফসলের আবাদ বাড়াচ্ছেন। উৎপাদন বেশি এবং বাজারে আলুর দাম কম থাকায় মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য সবজির দামও কমে গেছে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ছরতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টন। প্রায় ৯২ শতাংশ মিষ্টি কুমড়া চাষ হচ্ছে চরাঞ্চলে। অনেক কৃষক সাথী ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করছেন।


চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষে ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। ভালো ফলন হলে এক বিঘা জমিতে ৬০ থেকে ৮০ মণ পর্যন্ত কুমড়া পাওয়া যায়। গত বছর প্রতি মণ মিষ্টি কুমড়া ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। ফলে অনেক কৃষকে পুঁজি উঠাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।


লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা নদীর চর কালমাটি এলাকার কৃষক তমিজ উদ্দিন জানান, ‘এবার কুমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু পাইকাররা কম দামে কিনতে চাইছে। খরচ উঠানোই কঠিন হয়ে গেছে।’ ‘আমি আশা করেছিলাম গেল বছরের তুলনায় এবছর দাম বেশি পাবো কিন্তু আগের তুলনায় দাম কমেছে অনেক,’ তিনি বলেন।
তমিজ উদ্দিন তিস্তা নদীর চরে ২০ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা। এবছর ফলন পেয়েছেন আশাসুনুপ। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৭০ মণ কুমড়ার ফলন পেয়েছেন।


গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর চর মহিপুর এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। পাইকারদের কাছে যে দরে মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করছেন তাতে তেমন লাভ হচ্ছে না। আলুর দাম কম হওয়ায় তা মিষ্টি কুমড়ার দরের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
তার দাবি, সরকারিভাবে সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা করা হলে তারা উৎপাদিত মিষ্টি কুমাড়র ন্যায্য দাম পেতে পারেন। পাশাপাশি চরাঞ্চল থেকে সবজি পরিবহনে খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। ‘এবছর মিষ্টি কুমড়ার উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আগামী বছর মিষ্টি কুমড়া চাষ কমে যেতে পারে। এতে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।


রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন হাটবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া ৮ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে দাম আরও কম। ফলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।


ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে আলুর দাম কম। আলু প্রতি কেজি ১০ থেকে ১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু সহজলভ্য হওয়ায় ক্রেতারা অন্যান্য সবজির তুলনায় আলু বেশি কিনছেন। এর প্রভাব পড়েছে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, কচু, মিষ্টি আলুসহ অন্যান্য সবজির দামে।


রংপুর নগরীর পৌর বাজারে পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম বলেন, “আলুর দাম কম থাকলে মানুষ আলুই বেশি কিনে। তখন অন্য সবজির চাহিদা কমে যায়। তাই কুমড়ার দামও কম।‘আলুর দাম চড়া থাকলে ক্রেতারা অন্যন্য সবজির দিকে ঝুঁকে পড়েন। এতে মিষ্টি কুমড়াসহ সকল ধরনের সবজির দামও বাড়ে। কৃষকরা এতে লাভবান হন,’ তিনি বলেন।


রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলের মাটি মিষ্টি কুমড়া চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা বেশি করে চাষ করছেন। এবছর উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহও বেড়েছে। ফলে দাম কিছুটা কমেছে। এছাড়া বাজারে আলুর দাম তুলনামুলক কম হওয়ায় এর প্রভাবও পড়েছে মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যন্য সবজির দামের ওপর। ‘বাজারে দাম কম হলেও চরের চাষিরা মিষ্টি কুমড়া চাষে লাভবান। গেল কয়েক বছলধরে মিষ্টি কুমড়া চাষ চরের কৃষি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে।


বিবার্তা/হাসানুজ্জামান/এমবি


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com