
বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ারআখড়াবাড়িতে দোল উৎসব উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হলো একদিনর লালন স্মরণোৎসব। যা ছিল শুধুমাত্র আলোচনা সীমাবদ্ধ। রমজান মাসের কারণে এবছর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে আয়োজন। তবে আখড়াবাড়িতে আসা সাধু, বাউল, লালনভক্ত ও অনুসারীরা তাদের নিজস্ব রীতিতে সাধুসঙ্গ করে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় অধিবাস পর্বের মধ্যদিয়ে সাধুসঙ্গ শুরু হয়।
সাধুদের মতে দোল পূর্ণিমা বা ভাব পূর্ণিমা যখন হয় তখন তাদের নিজেদের ভেতরে ভাবের উদয় হয়। তাইতো তারা ছুটে আসেন সাঁইজির কৃপা দর্শন পেতে আখড়াবাড়িতে। আর সাধুসঙ্গে থাকলে আত্মা পরিশুদ্ধ হয়। এই সাধবাজারে আসলে মনটাও সাদা কাপড়ের মত পরিশুদ্ধ হয়। সেই পরিশুদ্ধ আত্মা নিয়ে সাইজির ধাম ছেড়ে যেতে মনে কষ্ট অনুভব হলেও প্রকৃতির নিয়মে ফিরে যেতে হয় তাদের নিজ নিজ ধামে। তবে অনুষ্ঠান একদিনের হলেও সাধুসঙ্গে যোগ দিতে পেরে তাতেই খুশি সাধুরা। এমনটি জানালেন আখড়াবাড়িতে আসা প্রবীন সাধু ফকির শামসুল শাহও ফকির আরোজ শাহ।
এদিকে দোল উৎসব উপলক্ষে লালন একাডেমির আয়োজনে ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সোমবার বিকেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে লালন একাডেমিক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। প্রধান আলোচক আলোচনা ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাশিদুজ্জামান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন ও কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার।
আলোচনা সভায় বক্তারা লালনের গান, বাউল দর্শন, লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতাবাদ নিয়ে আলোচনা করেন। আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন সাঁই তাঁর জীবদ্দশায় দোলপূর্ণিমা তিথিতে কালিগঙ্গা নদীর তীরে শীষ্যদের নিয়েমিলিত হতেন সাধুসঙ্গে। রাতভর চলতো আধ্যাত্মিক গান আর তত্ত¡ কথার আলোচনা। সাঁইজির দেহত্যাগের পরও যুগ যুগ ধরে সেই রেওয়াজ ধরে রেখেছেন তাঁর ভক্তানুরাগীরা।
মঙ্গলবার সকালে বাল্যসেবা ও দুপুরে পূর্ণ সেবার মধ্যদিয়ে সাধুদের সাধুসঙ্গ শেষ হবে। এবারের সীমিত আয়োজনে সাধু,লালন ভক্ত ও অনুসারীদের উপস্থিতিও ছিল কম।
বিবার্তা/শরীফুল/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]