
মানুষে মানুষে বিয়ে তো হরহামেশাই হয়, কিন্তু এবার ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন। যেখানে লাল শাড়ি পরে কনে সেজেছে বটগাছ, আর ধুতি পরে বর সেজেছে পাকুড়গাছ। হিন্দু শাস্ত্রীয় রীতি মেনে ধুমধাম করে সম্পন্ন হলো এই ‘প্রকৃতি-যুগলের’পরিণয়।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের কিসমত পাহাড়ভাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় উৎসবের আমেজ।
কালিমন্দিরের পাশের পুকুরপাড়ে সাজানো হয়েছে সুদৃশ্য মণ্ডপ। ঢাক-ঢোল, সানাইয়ের সুর আর নারীদের উলুধ্বনিতে মুখরিত পুরো এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিয়ের আয়োজন মোটেও লোকদেখানো ছিল না। গত বৃহস্পতিবার সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে গায়েহলুদ।
শুক্রবার দুপুরে ছিল মূল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। কনে বটগাছকে পরানো হয়েছিল লাল ও হলুদ শাড়ি, আর বর পাকুড়গাছ সেজেছিল সাদা ধুতিতে। মণ্ডপে ধান, দুর্বা, সিঁদুর আর ধূপ-প্রদীপের উপচারে কোনো কমতি ছিল না।
পুরোহিত শুভন চক্রবর্তীর মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে সম্পন্ন হয় বিয়ের কাজ।
শাস্ত্র মতে, বট ও পাকুড়কে সাত পাকে ঘুরিয়ে চার হাত (ডাল) এক করে দেওয়া হয়। বিয়ে শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা উপহার দিয়ে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন।
গ্রামের পরিমল চন্দ্র বর্মন জানান, চার বছর আগে তিনি পরম মমতায় বটগাছটি রোপণ করেছিলেন। প্রবীণদের পরামর্শে প্রকৃতির মঙ্গল কামনায় আজ তিনি ‘কন্যার’ বিয়ে দিলেন।
পাকুড়ে গাছটির দায়িত্ব পালন করা বলরাম সরকার জানান, এই বিয়ে উপলক্ষে প্রায় ৩০০ শতাধিক পরিবারকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল।
রান্নাবান্না ও আপ্যায়নে ছিল এলাহি কারবার।
পুরোহিত শুভন চক্রবর্তী বলেন, ‘শাস্ত্রে বট ও পাকুড় অত্যন্ত পবিত্র। মানুষের মোক্ষলাভ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার বার্তা দিতেই এই প্রাচীন লোকাচার পালন করা হয়েছে।’
ব্যতিক্রমী এই বিয়ে দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকেও ভিড় জমান কৌতূহলী মানুষ। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই আয়োজন বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করে তুলবে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]