ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:২৮
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে। জেলা শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, জেলায় মোট চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত গড়ে প্রায় ৬৯ শতাংশ পাঠ্যবই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।


জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, স্কুল পর্যায়ে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট চাহিদা ছিল ২৫ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫০ কপি, যার বিপরীতে প্রাপ্ত হয়েছে ১৯ লাখ ১৯ হাজার কপি। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৬৬ কপি, যা শতকরা ৯২ দশমিক ২৩ শতাংশ। তবে অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে প্রাপ্তি ও বিতরণে তুলনামূলক ঘাটতি রয়েছে।


মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই বিতরণের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। মাদ্রাসা পর্যায়ে মোট চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫০ কপি, প্রাপ্ত হয়েছে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮০০ কপি, যা মাত্র ৫৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বিতরণ হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৮৮৫ কপি, অর্থাৎ বিতরণ হার ৯১ দশমিক ৫১ শতাংশ।


ষষ্ঠ শ্রেণিতে একটিও বই প্রাপ্ত বা বিতরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানে মোট চাহিদা ছিল ৮ হাজার ১৫০ কপি, এর বিপরীতে প্রাপ্ত হয়েছে ৫ হাজার ৪৮০ কপি। বিতরণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২০০ কপি, বিতরণ হার প্রায় ৯৮ শতাংশ হলেও প্রাপ্তির হার সন্তোষজনক নয়।


সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে ইংরেজি ভার্সন শিক্ষায়। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৭৫০ কপি পাঠ্যবইয়ের চাহিদা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও বই প্রাপ্ত বা বিতরণ হয়নি। ফলে ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি বইবিহীন অবস্থায় শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে বাধ্য হয়েছে।


সামগ্রিকভাবে জেলায় সকল শ্রেণিতে মোট পাঠ্যবইয়ের চাহিদা ছিল ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫০ কপি, এর বিপরীতে প্রাপ্ত হয়েছে ২৫ লাখ ৪৭ হাজার কপি, যা ৬৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। বিতরণ করা হয়েছে ২২ লাখ ৬৮ হাজার ৩১১ কপি, বিতরণ হার ৯১ দশমিক ১৬ শতাংশ।


এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হোসেন স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাকি পাঠ্যবই দ্রুত সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।


এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার প্রতিবেদককে বলেন ১৫ জানুয়ারির মধ্যে বাকি বইগুলো চলে আসবে,শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা বলছেন, বছরের শুরুতেই সকল শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানো নিশ্চিত করতে না পারা শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকেই তুলে ধরে।


দ্রুত বই সরবরাহ না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


বিবার্তা/আকঞ্জি/এসএস

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com