বুধন্তীতে বিদ্রোহীতে বিপাকে নৌকার প্রার্থী
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:৫১
বুধন্তীতে বিদ্রোহীতে বিপাকে নৌকার প্রার্থী
মিজানুর রহমানকে সাথে নিয়ে নমিনেশন জমা দিচ্ছেন মফিজুল ইসলাম
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার ১নং বুধন্তী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এফতেহারুল ইসলাম। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমানের ছোট ভাই মো. মফিজুল ইসলাম।


অভিযোগ আছে, নৌকার মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে পাঠানো রেজুলেশনেও করা হয়েছে বিপুল অনিয়ম। সবমিলিয়ে বুধন্তী ইউপি নির্বাচন নিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় পড়েছেন তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ১নং বুধন্তী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এফতেহারুল ইসলাম (শামীম মাস্টার)। একই ইউনিয়নে মফিজুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মাঠে রয়েছেন। বিদ্রোহী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোবারক হোসেনও। এতে বিদ্রোহীর আধিপত্যে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।


স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, নৌকা প্রতীকে মনোনয়নের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়। সেখানে বিপুল ভোটে প্রথম হন ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন খান। ৭৩ ডেলিগেট ভোটের মধ্যে বিজয়ী দেলোয়ার পান ৬২ ভোট। ইউনিয়ন থেকে কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য রেজুলেশন পাঠানো হয় উপজেলায়। পরে জেলা থেকে কেন্দ্রে পাঠানো রেজুলেশনে তার নাম জায়গা পায় ৫ নম্বরে। এক নম্বরে দেয়া হয় হারিছুর রহমানের নাম। অথচ তার বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এফতেহারুল ইসলাম বিবার্তাকে বলেন, যারা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে তারা শপথ করেছিলো যাকে নৌকা দেয়া হবে তারা মেনে নেবেন। কিন্তু তারা এখন নৌকার পক্ষে কাজ করছেন না। উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমান তার ভাইকে দাঁড় করিয়ে চেয়ারম্যান বানানোর চেষ্টা করছেন। তার আরেক ভাই চেয়ারম্যান হয়েছেন। তিনি মনে করছেন ছোট ভাইকেও চেয়ারম্যান বানাবেন। এটা যার যার ব্যক্তি স্বার্থ। এমপির খালাতো ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের কেউ না। আমার সাথে তিনজনেরই সুসম্পর্ক ছিলো। দল মনোনয়ন দেয়নি। তারা ভাবছেন, নির্বাচনে দাঁড়ালে আমরা তো চেয়ারম্যান হয়ে যাবো। তাই দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনেই প্রার্থী হয়েছেন।


বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জহির ভূঁইয়া বিবার্তাকে বলেন, আমরা কেন্দ্রের নির্দেশে যারা বিদ্রোহী হয়েছে তাদের বহিষ্কারের জন্য জেলাতে প্রস্তাব করবো। যারা বিদ্রোহী হয়েছে তাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। দুই-একদিনের মধ্যে বিদ্রোহীদের তালিকা প্রস্তুত করে জেলায় পাঠানো হবে।


জানতে চাইলে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বিবার্তাকে বলেন, উনার ভাই আমাদের দলের অন্তর্ভূক্ত নয়। দলীয় যারা বিদ্রোহী হয়েছে সবাই বহিষ্কার হবে। অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন, মিটিংয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন এধরণের কোনো ডকুমেন্ট পাওয়ার পর আমরা ব্যবস্থা নেবো।


বিবার্তা/সোহেল/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com