টাকা চাইতে গিয়ে পাওনাদারের কান কাটলেন দেনাদার!
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২১, ২০:১৪
টাকা চাইতে গিয়ে পাওনাদারের কান কাটলেন দেনাদার!
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

পাওনা ৮০ হাজার টাকা চাইতে গিয়ে দেনাদারদের হামলায় কান হারালেন ব্যবসায়ী কবির মিয়া (৩৩)। কবিরের বাড়ি অরূয়াইলে। আর হামলাকারি খাইরুল (৩৭) ও দ্বীন ইসলাম (৪২) গংরা কবিরের প্রতিবেশি। গত রোববার রাতে খাইরুলদের বাড়িতেই এ ঘটনা ঘটেছে।


হামলাকারিদের মদদ দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে সেখানকার একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। ফলে মামলা করতে প্রথমে ভয় পেলেও কবিরের চাচা আবু তাহের বাদী হয়ে সরাইল থানায় একটি মামলা করেছেন।


আহত কবির ও তার পরিবার জানায়, শহিদ মিয়ার ছেলে কবির। তাদের মূল বাড়ি বারপাইকা গ্রামে। ৪০-৪২ বছর আগে তারা অরুয়াইলে বাড়ি করেছেন। জয়নাল মিয়ার ছেলে খাইরুল ও দ্বীন ইসলামের মূল বাড়ি ধামাউড়া গ্রামে। এখন তারা কবিরদের প্রতিবেশী। অরুয়াইল বাজারে ক্রোকারিজের মালিক কবির মিয়া। খাইরুল ঘুরে ফিরে তৈরী কাপড় বিক্রয়ের ব্যবসা করে। মাঝে মধ্যে কবিরের কাছ থেকে টাকা ধার নেয়। আবার ফেরতও দেন।


গত এক মাস আগে কবিরের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ধার নেয় খাইরুল। চাইলেই বলে দিয়ে দিব। এভাবেই ঘুরাচ্ছেন কবিরকে।গতকাল কবিরকে বলেছে রাতে বাড়িতে গিয়ে টাকা আনতে। কবির রাতে দোকান বন্ধ করে খাইরুলদের বাড়িতে যায়। টাকা না দিয়ে উল্টো সময় চেয়ে কবিরকে ধমকাতে থাকে খাইরুল। এক পর্যায়ে বলে মেহমানের সামনে টাকা চেয়েছিস। ‘তোর কান কেটে দিব। যেই কথা সেই কাজ।’


দা- নিয়ে দুই ভাই সহ ৩-৪ জন কবিরের উপর হামলা চালায়। প্রথমে কোপ দিয়ে দুই পায়ে আহত করে, পরে পেটে। সবশেষ একটি ছোঁড়া দিয়ে কবিরের বাম কানের লথি ও গাল কেটে ফেলে। আহত কবিরকে রাতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা খারাপ দেখে রেফার করা হয় ঢাকা মেডিকেলে। ঢাকা মেডিকেল থেকে কবিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় ইন্সটিটিউট অফ বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন আছে।


তবে ঘটনার পর হামলাকারিদের পক্ষ নিয়ে মামলা না করতে কবিরদের পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন আহত কবিরের চাচা তাহের মিয়া।


আহত কবির বলেন, আমরা যেখানে বাড়ি করে আছি সেখানে বারপাইকার শুধু আমরাই। চারিদিকের সবাই ধামাউড়া গ্রামের। তারা তো শক্তিশালি। বিভিন্ন কারণে ধামাউড়ার লোকজনকে এমনিতেই অরুয়াইলের অন্যান্য গ্রামের লোকজন ভয় পায়।


অরুয়াইলের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা এস আই মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ জমা হয়েছে। তবে ভুল আছে। ভুল সংশোধণের পর মামলা নথিভূক্ত হবে। অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।


বিবার্তা/আকঞ্জি/ইমরান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com