বোয়ালমারীতে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২১, ১৬:২৮
বোয়ালমারীতে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
বোয়ালমারী প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।


জানা যায়, ইসলামিক ডেপেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় বোয়ালমারী পৌরসভায় ৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২৩.৩৬ কিলোমিটার পানি সরবরাহ পাইপ স্থাপন, ১৯টি ডাস্টবিন, ৫টি পাবলিক টয়লেট, ১০টি কমিউনিটি টয়লেট, ১০টি সড়ক পানি সাপ্লাইকল, ১টি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নির্মাণ কাজ। ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়েন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এই প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে রয়েছে। আগামী ১ বছরের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।


বোয়ালমারী পৌরসভায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ পেয়েছে গোপালগঞ্জের মনির ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাইপের নিচে-ওপরে নির্দিষ্ট পরিমাণে বালু না দেয়া, পাইপ স্থাপনে মাটি খননে গভীরতা ও প্রশস্ততা কমসহ নানান অভিযোগ উঠেছে। পাইপের নিচে এবং উপরে ৬ ইঞ্চি করে বালু দেয়ার কথা থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক ইঞ্চি করেও বালু দিচ্ছে না। আর গর্তের গভীরতা এবং প্রশস্ততাও নির্দিষ্ট পরিমাপের কম রয়েছে।


এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানান অভিযোগ। গত ৭ মার্চ এই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিস্তারিত তথ্য জানতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বোয়ালমারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে গেলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আমিনুর রহমান তাদের তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরামর্শ দেন। পরেরদিন ৮ মার্চ স্থানীয় সাংবাদিকেরা তথ্য অধিকার আইনে লিখিত আবেদন করলেও তিনি ওই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।


এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক প্রকৌশলী বলেন, পাইপের নিচে এবং উপরে সঠিক পরিমাণে বালু দেয়া না হলে পাইপ ভেঙে যেতে পারে।'
বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা গোপালগঞ্জের মনির ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার মো. আজাদ বলেন, 'পাইপটাকে নিচে প্লেইন (সমতল) করার জন্য বালু দেয়া হয়। কোথাও যাতে উঁচু-নিচু না থাকে। কোথাও এক ইঞ্চি বালু লাগতে পারে আবার কোথাও ৮ ইঞ্চি লাগতে পারে। আমরা অবস্থা বুঝে এই কাজগুলো করি। ১ ইঞ্চি কিংবা ৫ ইঞ্চি বালুতে খুব বেশি পার্থক্য হয় না।


পাইপের নিচে এবং উপরে যৎসামান্য বালু দেয়ার অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আমিনুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলে তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য না করে তার অফিসে যেতে বলেন।


উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কামারগ্রাম চালিনগর মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বোয়ালমার পৌর মেয়র সেলিম রেজা লিপন।


বিবার্তা/মিলু/এসএ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com