
গোলের একাধিক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারলেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কখনো লক্ষ্যভ্রষ্ট শট, কখনো ফাঁকা জালে বল পাঠাতে ব্যর্থতা, আবার অফসাইডের কারণে বাতিল হলো তার গোল।
সব মিলিয়ে হতাশার এক রাত কাটালেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তবে তার ব্যর্থতার দিনে জোয়াও ফেলিক্সের একমাত্র গোলে ওয়েলসকে হারিয়ে উয়েফা নেশন্স লিগে শুভ সূচনা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল।
বৃহস্পতিবার রাতে লিসবনে নিজেদের মাঠে ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারায় পর্তুগাল। ম্যাচজুড়ে আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্বাগতিকদের।
বল দখলে ৬০ শতাংশের বেশি এগিয়ে থাকার পাশাপাশি ওয়েলসের গোল লক্ষ্য করে ২৩টি শট নেয় তারা। বিপরীতে ওয়েলসের পাঁচটি শটের মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যে।
কিন্তু পর্তুগালের জয়ের ব্যবধান বাড়তে দেননি ওয়েলস গোলরক্ষক ও রোনালদোর একের পর এক ব্যর্থতা।
ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের সন্ধানে ছিলেন রোনালদো। ফেলিক্সের বাড়ানো থ্রু পাস থেকে প্রথম সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি তিনি। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার কোনাকুনি শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর তার আরেকটি প্রচেষ্টা প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
রোনালদোর ব্যর্থতার মাঝেই ২২ মিনিটে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। বক্সের বাইরে থেকে জোরালো নিচু শটে গোল করেন ফেলিক্স। ওয়েলসের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বল জালে জড়ালে স্বাগতিকদের উল্লাস শুরু হয়। জাতীয় দলের হয়ে ৫৮ ম্যাচে এটি ফেলিক্সের ১৩তম গোল।
এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ আসে রোনালদোর সামনে। রুবেন নেভেসের ক্রস ছয় গজ বক্সের সামনে পেয়ে যান তিনি। ওয়েলসের গোলরক্ষকও তখন নিজের অবস্থান ছেড়ে সরে গিয়েছিলেন। সামনে ছিল প্রায় ফাঁকা জাল। কিন্তু রোনালদোর পায়ের স্পর্শে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এমন সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে নিজের ওপরই বিরক্তি প্রকাশ করেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।
এরপর আরও একবার গোলের দেখা পেয়েছিলেন রোনালদো। ব্রুনো ফার্নান্দেজের থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়। ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৬ গোলের মালিকের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়।
এরপরও সুযোগ তৈরি করেছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। তবে তার আরেকটি দুর্বল শট সহজেই নিয়ন্ত্রণে নেন ওয়েলস গোলরক্ষক। শেষ পর্যন্ত ৬৭ মিনিটে রোনালদোকে তুলে নেন পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুস। মাঠ ছাড়ার সময় তার মুখে ছিল হতাশার ছাপ। অবশ্য গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকেরা তাকে শুভকামনা জানিয়ে বিদায় জানান।
রোনালদোর হতাশার বিপরীতে ম্যাচের শেষ দিকে কিছুটা চাপে পড়ে যায় পর্তুগাল। ৭৩ মিনিটে ওয়েলস একটি শট নেয়, যদিও সেটি লক্ষ্যে ছিল না। পরের মিনিটেই তাদের আরেকটি প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সেই বল জালে জড়ালে ম্যাচের ফল অন্য রকম হতে পারত।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল। নেশন্স লিগের শিরোপাধারীদের শুরুটা হলো জয় দিয়ে, তবে রোনালদোর জন্য বিশ্বকাপ-পরবর্তী প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি হয়ে থাকল সুযোগ নষ্ট আর হতাশার গল্প।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]