
শৈল্পিক ফুটবলের চেয়ে লড়াই-সংগ্রামই ছিল বেশি। মাঠজুড়ে ছিল শরীরি খেলা, একের পর এক ফাউল, চোট আর রক্ষণভাগের কঠিন পরীক্ষা। এমন ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ হাসি হেসেছে কলম্বিয়া। জন আরিয়াসের প্রথমার্ধের একমাত্র গোলে ঘানাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।
ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় কলম্বিয়া। মাত্র ছয় মিনিটের মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় স্ট্রাইকার জন কর্দোভাকে। তার বদলি হিসেবে নামেন লুইস সুয়ারেজ। সেই পরিবর্তনই পরে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
১৪তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে সুয়ারেজের বাড়ানো বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কাছ থেকে জালে পাঠান জন আরিয়াস। টুর্নামেন্টে এটি তার গুরুত্বপূর্ণ এক গোল, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্যও নির্ধারণ করে দেয়।
গোল হজমের পর ঘানা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও কলম্বিয়ার সংগঠিত রক্ষণ তাদের খুব বেশি সুযোগ দেয়নি। মাঝমাঠে থমাস পার্টে ও সতীর্থরা বলের দখল ধরে রাখার চেষ্টা করলেও আক্রমণের শেষভাগে ধার ছিল না। পুরো ম্যাচে ঘানা কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়।
অপরদিকে ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিল কলম্বিয়া। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে লুইস দিয়াস ও বদলি নামা খেলোয়াড়দের কয়েকটি আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি-জিগি। তার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ না থাকলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে ঘানা। একের পর এক পরিবর্তন এনে ম্যাচে গতি ফেরানোর চেষ্টা করেন কোচ কার্লোস কুইরোজ। কিন্তু কলম্বিয়ার রক্ষণভাগ ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ। প্রতিপক্ষকে স্পষ্ট গোলের সুযোগ না দিয়ে শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধান ধরে রাখে নেস্তর লরেঞ্জোর দল।
ম্যাচজুড়ে ছিল শরীরি লড়াই। ঘন ঘন ফাউল, উত্তেজনা এবং কয়েকবার দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও দেখা যায়। তবে রেফারি ক্লেমঁ তুরপাঁ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠেন কলম্বিয়ার ফুটবলাররা। কঠিন এক নকআউট লড়াইয়ে জয় তুলে নিয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ ষোলোয়। দারুণ লড়াই করেও বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো ঘানার।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]