শিল্পবর্জ্যে মৃতপ্রায় খিরু নদী
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১৭
শিল্পবর্জ্যে মৃতপ্রায় খিরু নদী
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

ময়মনসিংহের ভালুকা পৌর এলাকায় শিল্পকারখানার বিষাক্ত তরল বর্জ্যে খিরু নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শেফার্ড ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীতে পড়ায় নদীর নাব্যতা কমছে এবং প্রায় ২৫ কিলোমিটার নদীপাড়ের সেচনির্ভর হাজার হাজার একর আমন ও বোরো জমির আবাদ ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশকর্মীরা জানিয়েছেন। দূষিত পানির কারণে নদী ও আশপাশের জলাশয়ের মাছসহ জলজ প্রাণীর উপস্থিতিও কমে গেছে। একই সঙ্গে দুর্গন্ধ ও দূষিত পানির কারণে জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, খিরু নদীর বিভিন্ন অংশের পানি কালচে হয়ে গেছে। নদীর পাড়ে গেলে রাসায়নিক পদার্থের তীব্র গন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানার বর্জ্য পড়তে থাকায় নদীর পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী ও খাল দখলের পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে শিল্পবর্জ্য ফেলার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয় কৃষকেরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে নদীর দূষিত পানি ব্যবহার করে চাষাবাদ করেন। এতে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীর পানিতে মাছ তো নেই-ই, ব্যাঙসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর উপস্থিতিও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।


পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, ভালুকায় প্রায় ৩০টি ড্রাইং কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার অনেকগুলো ইটিপি ব্যবহার না করে তরল শিল্পবর্জ্য বিভিন্ন খাল হয়ে খিরু নদীতে ফেলছে। এর ফলে লাউতি খাল, বিলাইঝুড়ি খালসহ প্রায় ৩০টি খালও দূষিত হয়ে পড়েছে বলে তাদের দাবি।


বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) ভালুকা আঞ্চলিক শাখার সদস্যসচিব কামরুল হাসান পাঠান বিবার্তাকে বলেন, শিল্পবর্জ্যের কারণে খিরু নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, শেফার্ড ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন কারখানার তরল বর্জ্য নদীতে পড়ছে। এসব বর্জ্যে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক থাকায় জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


কামরুল হাসান পাঠান আরও বলেন, খিরু নদী রক্ষার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধন, প্রতিবাদ ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ মার্চ নদীকৃত্য দিবসেও মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তবে কার্যকর পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কারখানাগুলো কীভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাচ্ছে এবং প্রতিবছর তা নবায়ন করছে।


স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, শিল্পকারখানাগুলোতে ইটিপি স্থাপন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না। তাঁদের দাবি, প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শনের সময় পরিশোধিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দেখানো হলেও অন্য সময়ে অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি জলাশয়ে ফেলার ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


নদীটির দূষণের পাশাপাশি অবৈধ দখলও খিরুর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিভিন্ন সময়ে দখল উচ্ছেদে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ীভাবে কার্যকর হয়নি বলে তাঁরা জানান।


পরিবেশকর্মীরা খিরু নদীর দূষণ বন্ধ, শিল্পকারখানার বর্জ্য পরিশোধন নিশ্চিত করা এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নদীটি রক্ষা করা না গেলে কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।


বিবার্তা/সাজ্জাদুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com