শবে বরাতে আল্লাহর নৈকট্যলাভ ও পাপ মুক্তি পাবেন যারা
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৩
শবে বরাতে আল্লাহর নৈকট্যলাভ ও পাপ মুক্তি পাবেন যারা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত হচ্ছে হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাতে পালিত মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ রাত। সে হিসেবে আজ (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে পালিত হবে পবিত্র লাইলাতুল বরাত। আল্লাহর নৈকট্যলাভ ও পাপ থেকে মুক্তির আশায় সারারাত ইবাদত বন্দেগিতে ব্যস্ত থাকবেন মুসল্লিরা। তবে শুধু এই একটা রাত ইবাদত করে সব ভাগ্য পেয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।


ইসলামি বিশ্লেষকরা বলছেন, শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত মধ্যরাতে আল্লাহ তা’আলা রাতের প্রথম থেকেই বান্দাদের প্রতি তার রহমতের দৃষ্টি দেন। মহিমান্বিত এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময় মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় নফল নামাজ পড়েন, কোরআন তিলাওয়াত করেন এবং জিকিরে মগ্ন থাকেন। অতীতের পাপ-অন্যায়ের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। তবে শিরক আর হিংসুক মানুষকে আল্লাহ ক্ষমা করেন না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম সময় সংবাদকে বলেন,


এই রাতে আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাদের দিকে মনোযোগী হন। আর মনোযোগী হয়ে বান্দাদের বিভিন্ন ভাষায় ডাকেন। কোনো ক্ষমাপ্রত্যাশী ব্যক্তি আছে কি, তাকে আমি ক্ষমা করে দেব। কোনো অনুগ্রহ কামনাকারী ব্যক্তি আছে কি, তাকে আমি অনুগ্রহ করব। কোনো রিযিকের প্রত্যাশী ব্যক্তি আছে কি, তাকে আমি রিযিক দেব, কোনো অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি আছে কি, তাকে সুস্থতা দেব, মুক্ত করে দেব ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই আমাদের উচিত এই রাতে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য প্রার্থনা করা।


ঢাকার সোবহানবাগ মসজিদের খতিব মাওলানা শাহ ওয়ালী উল্লাহ বলেন,মধ্য শাবানের রজনীটা বরকতময় রজনী। তবে আমাদের দেশে এই রজনীকে নাম দেয়া হয় ভাগ্যরজনী। কিন্তু এটা উচিত নয়। কোরআন এবং সুন্নাহে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’কে ভাগ্যরজনী বলাটা প্রমাণ হয় না। বরং ভাগ্যরজনী হলো রমজানের শেষ দশকের বিজোড় যেকোনো একটা রাত। মধ্য শাবানের রজনীটা হলো একটা বোনাস। কারণ বোনাস সেই ব্যক্তি পায়, যার চাকরি চলমান। মধ্য শাবানের রজনীর মর্যাদা, ফযিলত ওই ব্যক্তির জন্য, যিনি ধারাবাহিকভাবে সারা বছর ইবাদত করে ওই রাতেও ইবাদত করেন। তবে হ্যাঁ, সৌভাগ্য তাদের জন্যও, যারা পেছনের দিনগুলোতে ঠিকমতো ইবাদত করেননি, কিন্তু ওই রাত থেকে তওবা করেন যে আর জীবনে অপরাধ করবেন না, নামাজ-রোজা ছেড়ে দেবেন না। এভাবে নতুন অধ্যায় শুরু করলে, তার জন্য সৌভাগ্য।


‘তবে যদি কেউ মনে করেন যে এই রাতটা কেবল ভাগ্যরজনীর, আর একটা রাত ইবাদত করে ভাগ্য সব পেয়ে যাব, তাহলে সেটা বোকার স্বর্গে বসবাস ছাড়া কিছুই নয়’- যোগ করেন মাওলানা শাহ ওয়ালী উল্লাহ।


তিনি আরও জানান, দুই প্রকার মানুষ ছাড়া আল্লাহ সবাইকে ক্ষমা করে দেন। একটা হলো মুশরিক, যার জীবনে শিরক রয়েছে। অন্যটা হলো মুশাহিন, মানে হিংসুক।


বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ অর্ধ-শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তার সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান ৫৬৬৫)


ইসলাম ধর্মে, শিরক পৌত্তলিকতা বা বহুঈশ্বরবাদ চর্চা করার পাপকে বুঝায় অর্থাৎ শিরক হলো আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করা বা তার উপাসনা করা। শাব্দিকভাবে এর দ্বারা এক বা একাধিক কোনো কিছুকে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ও কর্তৃত্বের অংশীদার সাব্যস্ত করাকে বুঝায়।


আর অন্যের সুখ, শান্তি ও ধন-সম্পদ বিনষ্ট বা ধ্বংস করে নিজে এর মালিক হওয়ার বাসনাকে আরবিতে হাসাদ বা হিংসা বলা হয়। ইসলাম অন্যের প্রতি হিংসা করাকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে। হিংসা-বিদ্বেষ এক ভয়ানক সংক্রামক ব্যাধি। সম্পদের মোহ ও পদমর্যাদার লোভ-লালসা থেকে হিংসা-বিদ্বেষের সৃষ্টি হয়। হিংসা-বিদ্বেষ মুমিনের ভালো কাজকে নষ্ট করে ফেলে।


তাই নবী করিম (সা.) সাবধানবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ থেকে নিবৃত্ত থাকবে। কেননা, হিংসা মানুষের নেক আমল বা পুণ্যগুলো এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেভাবে আগুন লাকড়িকে জ্বালিয়ে নিঃশেষ করে দেয়।’


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com