
বাংলাদেশের কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম ক্রমেই বেশি ডিজিটাল হয়ে উঠছে, কিন্তু যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষা এখনও অধরা। এই শিক্ষার অভাব, ভুল তথ্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব মিলে তাদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অবহেলা করা হলে সংক্রমণ ঝুঁকি আগের তুলনায় বেশি হতে পারে।
জাতীয় HIV/AIDS ও STD কমিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ১৮–২৪ বছর বয়সী শনাক্ত রোগীর সংখ্যা মোট শনাক্তের প্রায় ১৫ শতাংশ। অধিকাংশই শহুরে এলাকা থেকে এসেছে।
৬০ শতাশের বেশি জানিয়েছে তারা যৌন সম্পর্কের বিষয়ে সঠিক তথ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাননি।
একটি এনজিওর জরিপও বলছে, কিশোরদের মধ্যে কনডম ব্যবহার সম্পর্কে ভুল ধারণা, লজ্জা এবং অপ্রস্তুতি বেশি। ফলস্বরূপ, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ বেড়ে যাচ্ছে।
ঢাকার একটি কলেজের ১৯ বছর বয়সী ছাত্রী, যার ছদ্মনাম সারা, তিনি জানালেন,
“স্কুলে আমরা খুব সংক্ষিপ্তভাবে ‘যৌন স্বাস্থ্য’ শিখেছি। বেশি কিছু বলা হয়নি। বন্ধু বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে যা শিখি, তাতেও অনেক ভুল তথ্য থাকে। তাই কখনও কনডম ব্যবহার করি না বা ভুলভাবে করি। ভয়ের বিষয় হলো—যদি কেউ বোঝে, লজ্জা লাগে।”
একজন ২০ বছর বয়সী ছেলে শিক্ষার্থী (ছদ্মনাম রাশেদ) বললেন, “অনলাইন থেকে অনেক তথ্য পাই, কিন্তু কতটা সঠিক জানি না। তাই অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি।” শিক্ষার ঘাটতি আর সামাজিক লজ্জা—দুই মিলিয়ে ঝুঁকি তৈরি করছে।
শিশু ও কিশোর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “যে তথ্য স্কুল–কলেজে দেওয়া হয়, তা অনেক সময় আধা‑সংকুচিত। ফলে তরুণরা সোশ্যাল মিডিয়া, বন্ধু ও ভাইব্রেন্ট ইউটিউব চ্যানেল থেকে তথ্য নেয়, যেখানে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত।”
একজন এনজিওকর্মী বলেন, “আমাদের কাজের লক্ষ্য হলো সচেতনতা বাড়ানো, কিন্তু সীমিত অর্থ ও কর্মী দিয়ে পুরো দেশের শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো কঠিন। ফলে অনেক কিশোর এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। সরকার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
তারা তিনটি সুপারিশ দিয়েছেন:
স্কুল ও কলেজে যৌনস্বাস্থ্য শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ পাঠক্রম চালু করা, অনলাইন ও অফলাইন যৌনস্বাস্থ্য সচেতনতা প্রোগ্রাম চালু করা এবং কনডম ব্যবহার ও নিরাপদ যৌন আচরণের ওপর বাস্তব উদাহরণ ও অনুশীলন প্রদর্শন করা।
যৌনস্বাস্থ্য শিক্ষার ঘাটতি শুধু শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে না, এটি ভবিষ্যতের জনস্বাস্থ্য সংকটেরও ইঙ্গিতও দিচ্ছে। সামাজিক লজ্জা ও ভুল তথ্যের কারণে কিশোর–তরুণরা নিরাপদ পথ বেছে নিতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থা ও এনজিও উদ্যোগের সমন্বয়, যাতে তরুণরা সঠিক তথ্য পায়, সচেতন হয় এবং ঝুঁকি কমানো যায়। নইলে আগামী বছরগুলোতে সংক্রমণ আরও দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পর্ব-২https://www.bbarta24.net/reader-mail/310371
বিবার্তা/এসএস
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]