অন্য ধর্মের প্রতি আঘাত করার অধিকার কারো নেই: হানিফ
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ২০:৪৪
অন্য ধর্মের প্রতি আঘাত করার অধিকার কারো নেই: হানিফ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, অন্য ধর্মের প্রতি আঘাত করার অধিকার কারো নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রচিত আমাদের সংবিধানের চার মূলনীতি ছিলো-ধর্মনিরপেক্ষতা মানে অসাম্প্রদায়িকতা, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৯ মাস যুদ্ধ করে আমরা এই সংবিধানের চার মূলনীতি রচনা করেছিলাম।


চসিকের আলকরণ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা তারেক সোলেমান সেলিমের নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


শনিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।


মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, লোকজ সংস্কৃতিতে আমাদের সামাজিক বন্ধন ছিল। সেই সামাজিক বন্ধনে অসাম্প্রদায়িকতার বিষ বপণ করে দিয়েছে একটি গোষ্ঠি। অথচ বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। আমরা মুসলিমরা দাবি করি ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই শান্তির ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা তুলে ধরা হচ্ছে। মাহফিলে হুজুরেরা ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা না করে ভুল ব্যাখা দিচ্ছেন। কুমিল্লার ঘটনায় মুল আসামি আটক হয়েছে। তিনি একজন মুসলমান। মুসলমান হয়ে মুসলমানের কুরআন শরীফকে তিনি মন্দিরে রেখে আসলেন। আমাদের কুরআনকে তিনি অসম্মানিত করেছেন। আর আমরা সবাই ধর্মের কথা বলে সারাদেশে মন্দিরে মন্দিরে হামলা চালিয়ে দাঙ্গা শুরু করে দিয়েছি। অথচ অন্য ধর্মের প্রতি আঘাত করার অধিকার কারো নাই।


আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র নেতা আরো বলেন, একজন ব্যক্তি যদি পরপর চার চার বার কাউন্সিলর নির্বাচত হন। তাহলে বুঝতে আর বাকি থাকে না। যিনি কত বড় জনপ্রিয় কাউন্সিলর ছিলেন। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।


শোক সভায় প্রধান বক্তা একে এম আফজালুর রহমান বাবু বলেন, সেলিম ভাই আপাদমস্তক একজন সংগঠক ছিলেন। কঠিন সমস্যার সমাধান দিতেন এক মিনিটেই। তিনি একজন মানবিক মানুষ ছিলেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলেন। চট্টগ্রামের মানুষ সেলিম ভাইকে ভুলতে পারেনি। সেলিম ভাই চট্টগ্রামের মানুষের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকুক।


দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, তারেক সোলেমান সেলিম কখনো রাজনীতিকে বিজনেস সেন্টার হিসেবে নেননি। রাজনীতিকে তিনি নিয়েছিলেন বিজ্ঞান হিসেবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হিসেবে। তারেক সোলেমান সেলিম চট্টগ্রামের মানুষের অন্তরে সারাজীবন বেঁচে থাকবেন।


মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আপনারা সকলে তারেক সেলেমান সেলিমের ভূমিকা পালন করেন। তারেক সোলেমান এর অনুসারিরা যেনো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হই।


সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, এটা আমাদের সংগঠনের দুর্বলতা কিনা জানি না। তারেক সোলেমান সেলিমকে তার জীবদ্দশায় যে মূল্যায়ন করা দরকার ছিল তা আমরা দিতে পারিনি। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে যারা ছোট করার চেষ্টা করেছিলেন তারা আজ নাগরিক শোক সভার দৃশ্য দেখে বুঝতে পারছেন তিনি কত বড় মাপের নেতা ছিলেন। আমি আপনাদের বলব। যা অন্তরে ধারণ করি তা যেন আমরা মুখ দিয়ে প্রকাশ করি। স্বার্থের রাজনীতি থেকে দূরে থাকি।