
দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়া, ক্ষোভ আর স্বপ্ন নিয়ে ৪০ হাজার ২০০ মানুষ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নিজের মন্তব্য জানিয়েছেন। কেউ লিখেছেন ব্যক্তিগত দুঃখ, কেউ চেয়েছেন হয়রানিমুক্ত হোক পাবলিক সার্ভিস, আবার কেউ চেয়েছেন রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার, কেউবা জুলাই হত্যাকাণ্ডে বিচার চেয়েছেন, উঠে এসেছে নারী-পুরুষের সমতা, শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ, ভালো শিক্ষাব্যবস্থা, দুর্নীতিমুক্ত-আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশের কথা। আবার কেউ কেউ ব্যক্তি আক্রমণ-আক্রোশ লিখেছেন, করেছেন সরকারের সমালোচনাও।
‘দেশের চাবি, আপনার হাতে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে গণভোট উপলক্ষে দেশজুড়ে চলা সচেতনতামূলক প্রচারণা অংশ হিসেবে ‘ভোটের গাড়ি’র সঙ্গে ছিল একটি বিশেষ ‘জনমত বাক্স’। সেই বাক্সেই জমা পড়েছে হাজারও মানুষের হাতে লেখা টুকরো টুকরো চিরকুট। ভোটের গাড়ি সারা দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর প্রায় ২১৬৯টি স্পটে গিয়ে প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়েছে।
এসব চিরকুট ও মন্তব্যের মধ্যে ঢাকা বিভাগ থেকে এসেছে ১০ হাজার ২১৬টি, চট্টগ্রাম থেকে ৬ হাজার ৬টি, সিলেট থেকে ১ হাজার ৬৫১টি, বরিশাল থেকে ২ হাজার ১২৪টি, খুলনা থেকে ৪ হাজার ৬৭৮টি, রংপুর ৩ হাজার ৬০৫টি, রাজশাহী থেকে ৫ হাজার ৭৩৮টি। ময়মনসিংহ থেকে ১ হাজার ৭৯৯টি এসেছে।
গাজীপুর থেকে রাফা লিখেছেন, ‘আমার পরামর্শ হলো আমি এ দেশের মাটি ও বাতাসের মাঝে নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ ভবিষ্যত বাংলাদেশে দেখতে চাই। এরকম একটা ভবিষ্যত বাংলাদেশ গড়তে নীতি-নির্ধারক তৈরি করার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করুন- রাফা, গাজীপুর বয়স: ১০ বছর।’
কুমিল্লা থেকে দেওয়ান সালাহউদ্দিন লিখেছেন, ‘সুষ্ঠু ভোট দেয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। মানুষ চায় সুষ্ঠু ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে পারে। কেন্দ্রে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা যাবে না। আমার ভোট আমি দিবো যাকে খুশি তাকে দিবো। প্রধান উপদেষ্টা ভালো ভোট আয়োজন করবেন। শুভেচ্ছান্তে দেওয়ান সালাহউদ্দিন’
চট্টগ্রাম থেকে গোলাম রাব্বানি লিখেছেন, ‘আমি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য কোম্পানির মালিককে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।’
ঠাঁকুরগাও থেকে একজন লিখেছেন, ‘গরিব মানুষ দিন মজুর করে খাই। গরুর মাংস আমরা কিনে খেতে পারি না। বাজার নিয়ন্ত্রণ চাই, সিন্ডিকেট চলতেছে বাজারে। গরিব মানুষ কিনে খাইতে পারছে না।’
ওসমান গণী নামে কক্সবাজারের রামু থেকে একজন লিখেছেন, ‘স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণ কী, আমার মেয়ের বিয়ে দিতে পারছি না, ভোজ্য তেল বা পণ্যর দাম বাড়ার কারণ কী, আমি চাই ইউনূস সরকার আরও সময় থাকুক, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমুক।’
বরিশাল থেকে সাদিক লিখেছেন, ‘যে দেশে শিক্ষকদের মান উন্নয়ন নিয়ে কেউ ভাবে না সে দেশে সুন্দর আদর্শ রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব না।’
পিরোজপুর থেকে একজন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সকল মানুষের অধিকার দিতে হবে। সবধর্মের মানুষের অধিকার দিতে হবে। সবাইকে বাকস্বাধীনতা অধিকার দিতে হবে। স্বাধীন বাংলার সবার অধিকার থাকবে। পক্ষপাতিত্ব যেন না হয়। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান একসাথে বাঁচতে চাই। সংখ্যালঘু নিরাপত্তা চাই।’
দিনাজপুর থেকে লিজা, বিপাশা, সুমি, লিনা, বৃষ্টি লিখেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মনে রেখে দেশের সুন্দর এবং সুষ্ঠু সংস্কার চাই। নারী ও শিশুদের অধিকার, ধর্ষণের ১০ দিনের মধ্যে রায় কার্যকর হোক। রাজনীতি যে দলই আসুক দিনাজপুর না কেন দেশের সংস্কারে যেন সকলেই নিয়োজিত থাকে।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বলা হয়েছে, কোনো রকম অস্বস্তি-সংকোচ ছাড়াই সাবলীল, আবেগাপ্লুত মন্তব্যগুলো পড়ে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, জনগণের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা অমূল্য সম্পদ, তাই কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই সব প্রশংসা, মন্তব্য, পরামর্শ এবং সমালোচনা-নিন্দাও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন ড. ইউনূস।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]