
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি টাকার বেশি সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আরও ছয়জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আদালত আগামী ১৬ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, আজ আদালতে ছয়জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে মামলার প্রধান আসামি বেনজীর আহমেদ পলাতক থাকায় তার পক্ষে কোনো জেরা করার সুযোগ ছিল না।
আজ সাক্ষ্য দেয়া ব্যক্তিরা হলেন: নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল হাফিজ, হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলাম, চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম এবং বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, গত ৩ মে এই মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত ১৪ জনের সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পলাতক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
মামলার এজাহার ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন একই কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়।
দুদকের তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্পদ বিবরণীতে বেনজীর আহমেদ ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। তবে অনুসন্ধানে তার নামে প্রায় ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে বৈধ আয়ের উৎস ও সঞ্চয়ের হিসাব বাদ দিলে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকা।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা গোপন করার উদ্দেশ্যে বেনজীর আহমেদ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন, যা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]