
দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে আফগানিস্তা। পরিবারের ভরণপোষণ মেটাতে ব্যর্থ হয়ে সন্তানদের বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। ঘোর প্রদেশে দারিদ্র ও বেকারত্বের সংকট সবেচেয়ে তীব্র। তীব্র খরায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, আফগানিস্তানে প্রতি ৪ জনের ৩ জনই মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারে না। বেকারত্ব, বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যখাত ও দাতা সংস্থাগুলো সহায়তা কমিয়ে দেয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আফগানিস্তান এখন রেকর্ড পরিমাণ ক্ষুধার সম্মুখীন। প্রায় ৪৭ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-দশমাংশের বেশি।
ঘোর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেখানকার পুরুষরা চরম হতাশায় নিমজ্জিত। পরিবারের ভরণপোষণ মেটাতে ব্যর্থ হয়ে সন্তানদের বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। মূল্য ২ লাখ আফগানি (আফগানিস্তানের মুদ্রা)। টাকার অঙ্কে সংখ্যাটা দাঁড়াবে প্রায় ৩ লাখ ৯৩ হাজার।
এদিকে, অপুষ্টি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে শিশুমৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়। তীব্র খরা দেশের অর্ধেকেরও বেশি প্রদেশকে প্রভাবিত করেছে, যা সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
আফগানিস্তানের শীর্ষ দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র গত বছর প্রায় সব সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাজ্যসহ আরও অনেক প্রধান দাতা দেশও তাদের অনুদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। জাতিসংঘের বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত সহায়তা ২০২৫ সালের তুলনায় ৭০ শতাংশ কম।
দারিদ্র্য, দুর্দশা, বেকারত্বের জন্য আগের সরকারকে দুষছে তালেবান বাহিনী। তবে নারীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের কারণে সহায়তা কমে যাচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে, মানবিক সহায়তাকে রাজনীতিকরণ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছে তালেবান সরকার।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]