
জনগণের আস্থা ফিরে পেতে হলে নেতাদের সবার আগে সৎ হতে হবে বলে জানিয়েছেন,মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারা। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জনগণ এবং নেতাদের মধ্যে যে চরম আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, তার জন্য নেতারাই প্রধানত দায়ী। তবে সাধারণ জনগণেরও এতে দায় রয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে আয়োজিত এক সেশনে এসব কথা বলেন তিনি।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আস্থাহীনতার জন্য নেতাদের ৮০ শতাংশ এবং সাধারণ জনগণকে ২০ শতাংশ দায়ী করেছেন মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারা। বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক দুর্নীতি রোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নেতা এবং সাধারণ নাগরিক উভয় পক্ষের করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় নেতাদের এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত নয়, যা তাদের পক্ষে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসার প্রবণতাকে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, নেতারা যখন ক্ষমতায় বসেন, তখন তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের চেষ্টা করতে হবে। কোনো কারণে তারা ব্যর্থ হলে, কেন ব্যর্থ হলেন তা জনগণকে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। একইসঙ্গে, নেতাদের আয়-ব্যয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং তাদের সার্বিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আরও বেশি ‘স্বচ্ছতা’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজের প্রতি তিনি এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। ভোটের বিনিময়ে টাকা বা উপহার নেওয়াকে মুসা মারা রাজনৈতিক দুর্নীতি ও অপশাসনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
উন্নত দেশগুলোর সাথে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজনৈতিক সংস্কৃতির পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের সমাজে মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য রাজনীতিবিদদের কাছে টাকা চায়। কিন্তু একজন নেতা যখন টাকা খরচ করে ক্ষমতায় আসেন, তখন তার প্রথম লক্ষ্যই থাকে সেই টাকা তুলে নেওয়া। এটি দুর্নীতির চক্র তৈরি করে এবং সুশাসনকে ধ্বংস করে দেয়।
তরুণদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট দেওয়ার জন্য কখনো টাকা বা উপহার চাইবেন না বা গ্রহণ করবেন না। রাজনীতিবিদের নীতি, তার কাজের কর্মসূচি এবং যুক্তির ভিত্তিতে যাচাই করে ভোট দিন। আপনি যখন টাকার বিনিময়ে ভোট দেবেন না, তখন নির্বাচিত নেতা ক্ষমতায় গিয়ে আপনার জন্য কাজ করতে বাধ্য থাকবেন।
তিনি বলেন, জনগণ যদি এই নীতি মেনে চলে, তবে তা রাজনৈতিক দুর্নীতি কমিয়ে আনতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। শনিবার এতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন সোমবার শেষ হবে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]